মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর দিকে প্রায় দুই হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব হামলায় মূলত দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী বাংলাদেশীরা, বিশেষ করে দুবাই ও আবুধাবির মতো ব্যস্ত নগরীগুলোতে বসবাসরত শ্রমজীবী ও পেশাজীবীরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন।
সোমবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর কাছে ড্রোন হামলার ঘটনায় আগুন লাগার পর সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
একই সময়, দেশের অন্যতম প্রধান তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র ফুজাইরাহ বন্দর-এ হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে, যা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
এছাড়া রাজধানী আবুধাবি-র উপকণ্ঠে একটি গাড়িতে রকেট হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
পাল্টা হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর একাধিকবার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যার ফলে ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনা বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলেও হামলার খবর পাওয়া যায়।
বিবিসি-এর সংবাদদাতা আজাদেহ মশিরি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত মনে করছে—তাদেরকে অনিচ্ছাকৃতভাবে এই সংঘাতে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তার মতে, ইরানের লক্ষ্য হতে পারে এই চাপ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র-কে কূটনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা। তবে এতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ক্ষোভই বাড়ছে।