টাঙ্গাইলে পাঁচ উপজেলায় ব্যাপক লোডশেডিং, ভোগান্তিতে ৭ লাখ গ্রাহক

টাঙ্গাইলে পাঁচ উপজেলায় ব্যাপক লোডশেডিং, ভোগান্তিতে ৭ লাখ গ্রাহক

জামালপুরের দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কারখানার একটি বন্ধ এবং অপরটি নামে মাত্র চালু থাকায় টাঙ্গাইলের ৭ লাখ গ্রাহক টানা আট দিন ধরে বিদ্যুৎ সংকটে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ২৪ ঘণ্টায় চার-পাঁচ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুত্ পাচ্ছেন না।
জানা যায়, টাঙ্গাইলের গোপালপুর, মধুপুর, ধনবাড়ী, ভূঞাপুর ও ঘাটাইল উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ৭ লাখ গ্রাহক রয়েছে। ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১ এখানে বিদ্যুত্ সরবরাহ করে। পিকআওয়ারে গ্রাহক প্রান্তে প্রায় ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ লাগে। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যায় ৮-১০ মেগাওয়াট।
দিনের বেলায় লোড ম্যানেজমেন্ট করে বিভিন্ন ফিডারে দুই-এক ঘণ্টা করে বিদ্যুত্ দেওয়া হয়। কিন্তু সন্ধ্যার পর ধনবাড়ী, গোপালপুর ও মধুপুর পৌরসভা বাদে সব গ্রামে বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। সারা রাত ৩ হাজার গ্রাম অন্ধকারে ডুবে থাকে। টানা আট দিন ধরে চলছে এমন অসহনীয় পরিস্থিতি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জামালপুরে দুইটি বেসরকারি পাওয়ার প্ল্যান্ট ২১৫ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। জামালপুর পিডিবি লোড ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে এ বিদ্যুত্ শেরপুর, জামালপুর ও টাঙ্গাইল জেলায় বিতরণ করে।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১-এর কর্মীরা অভিযোগ করেন, জামালপুর ও শেরপুর জেলার চাহিদা পূরণের পর পিডিবি জামালপুর গ্রিড সাবস্টেশন থেকে ৩৩ কেভি লাইনের মাধ্যমে টাঙ্গাইল অংশে যত্সামান্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি, গ্যাস সংকট এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি বেসরকারি পাওয়ার প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। আর অন্যটি আংশিক উত্পাদনে আছে। ঘাটতি পূরণের জন্য ময়মনসিংহ আরপিসিএল থেকে বিদ্যুত্ আনার কথা থাকলেও সেখানেও গ্যাস সংকটে উত্পাদন কমে যাওয়ায় সংকটের দায়ভার পুরোটাই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে টাঙ্গাইল প্রান্তের গ্রাহকের ওপর।

গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, পল্লী বিদ্যুতের ৭ লাখ গ্রাহক টাঙ্গাইল জেলার। বিদ্যুত্ সরবরাহ করে জামালপুর জেলা। আর গ্রাহকদের সেবা দেন ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি। এ যেন এক ত্রিশঙ্কু অবস্থা।
ময়মনসিংহে অভিযোগ দিলে সমিতির কর্মকর্তারা আঙুল তোলেন জামালপুর গ্রিডের বিদ্যুত্ বিতরণ কর্তৃপক্ষের দিকে।

আবার সেখানে ফোন দিলে তারা ফিরতি আঙুল তোলেন ময়মনসিংহ পিবিএসের দিকে বলে জানান তিনি।
আলমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মোমেন জানান, টাঙ্গাইলের এসব উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে।

আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি এসব উপজেলার শতভাগ বিদ্যুতায়ন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন। তিনি এসব উপজেলা নিয়ে একটি পৃথক পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি গঠনের দাবি জানান।
পল্লী বিদ্যুৎ মধুপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম বিল্পব কুমার সরকার জানান, তীব্র বিদ্যুত্ সংকট মোকাবিলায় গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
গোপালপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম মুজিবুল হক দুর্ভোগের সত্যতা স্বীকার করেন।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুতের জিএম আখতার হোসেন জানান, দুই-চার দিনের মধ্যে সংকট কেটে যাবে।

তাছাড়া টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাকুটিয়ায় পিডিবির একটি গ্রিড সাবস্টেশন হচ্ছে। এটির নির্মাণ শেষ হলেই টাঙ্গাইলের গ্রাহকরা আর জামালপুরের ওপর নির্ভরশীল থাকবেন না। আর টাঙ্গাইলের একটি পৃথক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি হলে তো ভালোই হবে।

Please Share This Post in Your Social Media




প্রধান কার্যালয়ঃ স্কুল মার্কেট,২য় তলা, কচুয়া বাজার,সখীপুর, টাঙ্গাইল। মোবাইলঃ 01518301289; 01708067997 ইমেইলঃ Kachuaonlinenews@gmail.com ©TangailNews24 Is A Part Of KachuaOnlineNews© © All rights reserved © 2021 Tangail News
Design BY NewsTheme