শিরোনাম :
সখীপুরে পুলিশকে থাপ্পর মারায় শিক্ষক গ্রেফতার সখীপুরে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে এতিম শিশুদের নিয়ে কেক কাটল উপজেলা প্রশাসন এবারো জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা হচ্ছে না : শিক্ষামন্ত্রী সখীপুরে ১৪ বছর পালিয়ে থাকার পর অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার। নাগরপুরে প্রশাসনের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্মদিন পালিত নাগরপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্মদিন পালিত সখীপুরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ নাগরপুরে স্বেচ্ছাসেবকলীগের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ৭৫ তম জন্মদিন পালিত সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ,প্রসূতিদের চরম দুর্ভোগ সখীপুরে এইচএসসির ফরম পূরণ করেনি ৫৩ শতাংশ শিক্ষার্থী
সখীপুরে কলার বাগানের ভেতর বনজ চারা রোপন করে বনবিভাগের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ।

সখীপুরে কলার বাগানের ভেতর বনজ চারা রোপন করে বনবিভাগের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ।

প্রতিনিধি, সখীপুর, টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের সখীপুরে কালমেঘা গ্রামে কলার বাগানের ভেতর জোরপূর্বক বনজ চারা রোপন করে বনবিভাগের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসী। এ ব্যাপারে ওই গ্রামবাসীর পক্ষে কৃষক আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে টাঙ্গাইলের সখীপুরের জজ আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন।
গত ১৯ জুলাই করা মামলায় টাঙ্গাইল বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে (ডিএফও) বিবাদী করে এ মামলা করা হয়। গ্রামবাসীর দাবি, এ জমি তাঁদের পূর্বপুরুষরা বংশ পরম্পরায় ভোগ দখল করে আসছে। তাঁরা ওই জমির নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) দিয়ে আসছেন।

স্থানীয় বিট কর্মকর্তার কার্যালয়, মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালমেঘা মৌজার ৯১ নম্বর দাগের ২৯ দশমিক ৭৫ একর জমি রয়েছে। সেখানে বনের আছে মাত্র ১১ দশমিক ৮৫ একর। বাকি ১৭ দশমিক ৯০ একর জমি সাধারণ মানুষের নামে সি.এস রেকর্ডভূক্ত। এসব রেকর্ডভূক্ত জমির ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) দেওয়া হচ্ছে। ওইসব জমি কৃষকদের নামে নামজারিও করা হয়েছে। গ্রামবাসীর দাবি তাঁরা ১০০ বছরের অধিককাল সময় ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।
মাস ছয়েক আগে ওই গ্রামের নয়জন কৃষক ৬ একর জমিতে কলার বাগান করেছেন। গত দুই সপ্তাহ আগে বনবিভাগের লোকজন ওই কলার বাগানের ভেতর দিয়ে এক ফুট লম্বা আকাশমনি গাছের চারা রোপন করেছেন। গ্রামবাসী বনবিভাগকে মৌখিকভাবে বাধা দিলেও তাঁরা শোনেননি।
গত রোববার বিকেলে সরজমিন কালমেঘা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শুধু যেখানে কলার বাগান রয়েছে সেখানে বাগানের ভেতর দিয়ে সারিবদ্ধভাবে ছোট ছোট খুটি দিয়ে এক ফুট লম্বা আকাশমনি গাছের চারা লাগানো হয়েছে। তবে পতিত জমিতে বনবিভাগ চারা রোপন করেনি।

কালমেঘা গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে করা মামলার বাদী কৃষক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ওই জমিতে এর আগে কোনদিনই বনবিভাগ দখলে আসেনি। গত ১০০ বছরে তাঁরা কোনো বনায়নও করেননি। আমাদের জমির ওপর দিয়ে সম্প্রতি গ্যাসলাইন চলে গেছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ আমাদের দখলীয় জমির কাগজপত্র, খাজনার রশিদ দেখে জমি অধিগ্রহণ করে আমাদেরকে সরকার জমির তিনগুণ টাকা পরিশোধ করেছে। কিছুদিন আগে স্থানীয় বিট কর্মকর্তা আবদুল মোতালেব অধিগ্রহণের টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় গত ১৭ ও ১৮ জুলাই বনবিভাগ আমাদের কোনো নোটিশ না করেই হঠাৎ করে আমাদের কলাবাগানের ভেতর চারা লাগিয়ে দেন।

কালমেঘা বিট কর্মকর্তা আবদুল মোতালেবের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ৯১ দাগে আমাদের ১১ একর জমি রয়েছে। সেই জমির মাত্র সাড়ে তিন একর জমিতে আমরা চারা রোপন করেছি। বাকি জমিতে পর্যায়ক্রমে চারা রোপন করা হবে।
ওই গ্রামের আবদুর রাজ্জাক ছাড়াও মোস্তফা জামাল, নুরুল ইসলাম, শাহজাহান আলী, আনিছুর রহমান, আখতারুজ্জামান, ইমারত হোসেন, শহীদুল ইসলাম ও আরমান আহমেদসহ ভূক্তভোগী অর্ধশত গ্রামবাসী উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে নালিশ করেন।

গত রোববার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল লেবু কালমেঘা গ্রাম পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, বনবিভাগ ভূমি দখলের নামে কলাবাগানের ভেতর রেকর্ড জমিতে তাদের বিদেশি প্রজাতির চারা রোপন ঠিক হয়নি। বনের জমি অনেক বেদখল হয়েছে। সেইসব বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে বনবিভাগ কাজ করুক। রেকর্ড জমিতে কেন?

হাতিয়া রেঞ্জের কর্মকর্তা আলাল খান মুঠোফোনে বলেন, আমরা কলার বাগান ধ্বংস করিনি। বাগানের ভেতর দিয়ে ছোট ছোট চারা রোপন করেছি। ওই জমি আমাদের। আগে ওই জমি বেদখল ছিল। কলার বাগান মালিকদের বলে দেওয়া হয়েছে, তাঁরা কলার ছড়ি পরিপক্ক হলে কলার আবাদ শেষ করে জমি ছেড়ে দেবে। আমরা ইচ্ছে করলে কলার বাগান কেটে ফেলে বনজ চারা রোপন করতে পারতাম। মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা তা করিনি।

কালমেঘা গ্রামের ভূক্তভোগী ইমারত হোসেন বলেন, প্রয়োজনে জান দেব তবু আমাদের বাপ-দাদার জমি ছাড়বো না। এ জমিতে আমাদের পূর্বপুরুষরা শুয়ে আছে। আমাদের নামে সব ধরনের কাগজপত্র রয়েছে। আমরা বনের জমি দখল করিনি। বনবিভাগই আমাদের জমি জোরপূর্বক দখল করছে। ওই দাগে অনেক পতিত জমি রয়েছে। তাঁরা দেখে দেখে শুধু কলার বাগানের ভেতরই বনজ চারা রোপন করল। এটা তো খুবই রহস্যজনক। গ্রামবাসী বিষয়টি বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন।

টাঙ্গাইল বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. জহিরুল হক মুঠোফোনে বলেন, মামলার বিষয়ে আমি এখনো কিছু জানিনা। তবে ওই দাগে বনবিভাগের জমি রয়েছে। বনবিভাগের জমি উদ্ধার করে সেখানে বনজ বাগান করা হবে। আমাদের বাগান করায় কেউ বাধা দিলে আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবেলা করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media




প্রধান কার্যালয়ঃ স্কুল মার্কেট,২য় তলা, কচুয়া বাজার,সখীপুর, টাঙ্গাইল। মোবাইলঃ 01518301289; 01708067997 ইমেইলঃ Kachuaonlinenews@gmail.com ©TangailNews24 Is A Part Of KachuaOnlineNews© © All rights reserved © 2021 Tangail News
Design BY NewsTheme