টাঙ্গাইল পৌরসভার ৮৭ কাউন্সিলর প্রার্থীর ৩৪ জন মামলার আসামি

টাঙ্গাইল পৌরসভার ৮৭ কাউন্সিলর প্রার্থীর ৩৪ জন মামলার আসামি

টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে ৮৭ জন সাধারণ কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর মধ্যে ৩৪ জনই হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন সময় নানা অপরাধের মামলার আসামি হয়েছেন। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় প্রার্থীরা নিজেরাই এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন।

এ পৌরসভায় তৃতীয় ধাপে ৩০ জানুয়ারি ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।



১ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর ও প্রার্থী তানভীর হাসান ফেরদৌসের নামে বর্তমানে কোন মামলা নেই। তবে আগে তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যাসহ ছয়টি মামলা হয়েছিল।

এই ওয়ার্ডের অপর প্রার্থী মোমিনুল হক খান নিক্সনের বিরুদ্ধে তিনটি এবং সেলিম সিকদার ও শাহিদুল ইসলাম কবিরের বিরুদ্ধে একটি করে মামলা রয়েছে।

২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি এবং অপর প্রার্থী শাহজাহান মিয়ার বিরুদ্ধেও অস্ত্রসহ তিনটি মামলা ছিল। মামলাগুলো থেকে তারা খালাস পেয়েছেন।

৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর হেলাল ফকিরের বিরুদ্ধে দাঙ্গা-হাঙ্গামার একটি মামলা এবং অপর প্রার্থী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতির মামলা ছিল। উভয় মামলাই নিষ্পত্তি হয়েছে।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর মীর মইনুল হক লিটনের বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি হত্যা মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আগে একটি হত্যাসহ পাঁচটি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মামলা ছিল।



এ ওয়ার্ডের প্রার্থী আনোয়ার সাদাৎ তানাকার বিরুদ্ধে একটি হত্যাসহ তিনটি মামলা চলমান। আগে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা ছিল।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর শফিকুল হক শামীমের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধাদান ও সরকারি কর্মচারীদের মারধরের একটি মামলা চলমান। এ ছাড়া আগে তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা ছিল। তা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে একটি হত্যাসহ দুটি মামলা রয়েছে। আগে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা ছিল, তা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। এ ওয়ার্ডের প্রার্থী নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও বিদ্যুত আইনে একটি মামলা রয়েছে।

৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে একটি হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা ছিল, এ মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন।

১১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর মেহেদী হাসান আলিমের বিরুদ্ধে একটি অগ্নিসংযোগের মামলা ছিল, সেটা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।



১২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার ১০টি মামলা রয়েছে।

এ ওয়ার্ডের মুনসুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মামলা চলমান এবং আগে একটি মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। অপর প্রার্থী শহীদ মিয়ার বিরুদ্ধে দুটি সন্ত্রাসী মামলা বিচারাধীন, দুটি থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন।

১৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী হজরত খানের বিরুদ্ধে অতীতে তিনটি সন্ত্রাসী ছিল, যা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। এই ওয়ার্ডের প্রার্থী সোহেল রানার বিরুদ্ধে চেক প্রতারণার মামলা রয়েছে।

১৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর আবদুল্লাহেল ওয়ারেছ হুমায়ুনের বিরুদ্ধে আগে তিনটি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মামলা এবং অপর প্রার্থী শহীদুর রহমান সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দুটি হত্যাসহ তিনটি মামলা ছিল।

সব কটি থেকেই তারা খালাস পেয়েছেন। এ ওয়ার্ডের অপর প্রার্থী আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি মামলা বিচারাধীন। আগে তার বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা ছিল।

১৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অতীতে তিনটি হত্যা, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৭টি মামলা ছিল। সব কটি থেকেই তিনি খালাস পেয়েছেন।

অপর প্রার্থী শাহ জনির বিরুদ্ধে দুটি হত্যাসহ তিনটি মামলা ছিল। তিনিও সব কটি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন।

১৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর সাজ্জাদ আহমেদের বিরুদ্ধে একটি হত্যাসহ দুটি মামলা চলমান। আগেও তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যাসহ তিনটি মামলা ছিল। তা থেকে খালাস পেয়েছেন।

অপর প্রার্থী আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি জোড়া খুনসহ সাতটি মামলা চলমান। অতীতে তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যাসহ ছয়টি মামলা ছিল, সেগুলো নিষ্পত্তি হয়েছে।

যৌতুকের কারণে স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলার আসামি ছিলেন প্রার্থী কাজী মাহবুবুল করিম, সেটা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন।



১৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আসাদুজ্জামান প্রিন্সের বিরুদ্ধে আগে একটি এবং সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে আগে তিনটি মামলা ছিল। মামলাগুলো থেকে তারা খালাস পেয়েছেন।

তবে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়জন প্রার্থীর কারও বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই।

৭ নম্বর ওয়ার্ডে চারজন প্রার্থী। তাদেরও বিরুদ্ধেও মামলা নেই।



১০ নম্বর ওয়ার্ডের তিনজন প্রার্থীর কারও বিরুদ্ধে মামলা নেই এবং ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তিনজন প্রার্থীর কারও বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সহ-সভাপতি বাদল মাহমুদ বলেন, দেশের রাজনীতির যে অবস্থা, তার প্রতিফলন এখানে উঠে এসেছে।

এসব মামলার সব যে রাজনৈতিক কারণে বা ষড়যন্ত্রমূলক হয়েছে- তা বলে পার পাওয়া যাবে না। নির্বাচনে শক্তি প্রয়োগের যে প্রবণতা দেখা যায়, তার ফলেই হয়তো বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রার্থী হতে উৎসাহিত হচ্ছেন।

Please Share This Post in Your Social Media




প্রধান কার্যালয়ঃ স্কুল মার্কেট,২য় তলা, কচুয়া বাজার,সখীপুর, টাঙ্গাইল। মোবাইলঃ 01518301289; 01708067997 ইমেইলঃ Kachuaonlinenews@gmail.com ©TangailNews24 Is A Part Of KachuaOnlineNews© © All rights reserved © 2021 Tangail News
Design BY NewsTheme