অল্প বয়সেই অ্যাপস তৈরির কারিগর টাঙ্গাইলের আল আমিন

টাঙ্গাইলের কালিহাতী সদরের নায়েব আলীর ছেলে আল আমিন। তিনি একে একে বেশ কিছু সাড়া জাগানো মোবাইল অ্যাপ তৈরি করেছেন। ২০১৬ সাল থেকে তার এই মোবাইল অ্যাপস তৈরি শুরু হয়।

আল আমিন যখন মাত্র নবম শ্রেণির ছাত্র। হঠাৎ একদিন ভাবলেন, নিজের বিদ্যালয়কে প্রযুক্তির আওতায় আনবেন। যেই ভাবনা সেই কাজ। তৈরি করে ফেললেন ‘মাই স্কুল’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপ। যার মাধ্যমে স্কুলে না গিয়েও জানা যায় আগামীকালের বাড়ির কাজ এবং ক্লাসে শিক্ষক কী পড়িয়েছেন। ছুটির দিনের নোটিশসহ প্রত্যেক শিক্ষকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। দেশজুড়ে সাড়া ফেলেছিল ওই অ্যাপ।



মানুষের প্রশংসায় আল আমিন উৎসাহ পান। তারপর ২০১৭ সালে মোবাইলের মাধ্যমে ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থা করতে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করেন। আর সেই বছর ‘জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা’য় উপজেলা, জেলার প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে সারাদেশে প্রথম হন।

এরপর ২০১৮ সালে আবার ‘বিজ্ঞান স্মার্ট সিটি প্রজেক্টের আওতায় নগর আধুনিকায়নের রূপরেখা তুলে ধরে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সারাদেশে প্রথম হন। সেবারও স্বর্ণপদক পান তৎকালীন নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির হাত থেকে।



নিজের এই উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ২০২০ সালের মহামারি করোনাভাইরাসে লকডাউনের সময় মানুষের জন্য তৈরি করেন ‘করোনার প্রতিকার’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ। যা ব্যবহার করে সময়ে সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মানার সতর্কবার্তা দেয়। এ ছাড়া চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নম্বর ও জাতীয় স্বাস্থ্য বাতায়নের নম্বর যুক্ত রয়েছে।

এছাড়া গত বছরের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি প্রজেক্ট ছিল। করোনাভাইরাসে সংকটে পড়া মানুষকে অল্পমূল্যে খাদ্যসামগ্রী দিতে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি (ওএমএস) সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার একটি অ্যাপ। এ অ্যাপের মাধ্যমে ১০ টাকা দরের ওএমএস চাল বিক্রির প্রক্রিয়াটি তদারকি করে উপজেলা প্রশাসন। কে কার কাছে চাল বিক্রি করছে, কতটুকু চাল বিক্রি হলো- এমন সব তথ্য মুহূর্তে জমা হচ্ছে উপজেলা প্রশাসনের অনলাইন সিস্টেমে। এখন সারাদেশে ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে চাল বিতরণের এ অ্যাপ বাস্তবায়নের কাজ করছে সরকার।

সম্প্রতি আল আমিনের সঙ্গে গল্প জমে ওঠলে জানা যায় অ্যাপস তৈরি পেছনের কথা।



ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি তীব্র আগ্রহ ছিল আল আমিনের। মাঠে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলেও সময় পার করেছেন শৈশবে। তবে প্রযুক্তি যেন দিন দিন তাকে আসক্ত করে ফেলছিল। সারাদিন বাসার হ্যান্ডসেট নিয়ে মোবাইল গেমে পড়ে থাকা। ব্যবসায়ী বাবার কাছে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলের আবদার ল্যাপটপ। একমাত্র ছেলের আবদার ফেলতে পারেননি বাবা। তারপর ল্যাপটপ বাসায় এলো। তাতে মডেম লাগিয়ে ইন্টারনেটে ঘুরপাক শুরু। ইন্টারনেট হয়ে উঠল তার প্রযুক্তি শিক্ষক।

তরুণ অ্যাপ নির্মাতা আল আমিন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল আমার। বাবার দেওয়া ল্যাপটপ আমাকে প্রযুক্তি নিয়ে ভাবতে সাহায্য করেছে। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিন্তার জগত পাল্টাতে থাকে। তখন মাথায় কাজ করে দেশকে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে কিছু দেওয়ার। তাই আমার ক্ষুদ্র উদ্ভাবন দিয়ে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করে মানুষের কাজকে সহজ করছি। আর শুরুটা আমার স্কুল থেকে করি। স্কুলের বন্ধু, শিক্ষকরা ও এলাকার মানুষের অনেক প্রশংসা পাই। তাছাড়া পত্রিকা ও টেলিভিশনে আসে সেই খবর। তখন কাজের প্রতি উৎসাহ আরো বাড়ে। আমার কাজের জন্য দুইবার স্বর্ণপদক পেয়েছি। পেয়েছি অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা।



ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আল আমিন বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দেশকে আরো অনেক কিছু দেওয়ার আছে। কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনা করার ইচ্ছা আছে। আর কাজের কথা যদি বলি, তাহলে আন্তর্জাতিক মানের একটা মোবাইল অ্যাপ তৈরি করবো, যাতে পৃথিবীর সব দেশ আমার তৈরি অ্যাপ ব্যবহার করতে পারে।’

error: Content is protected !!