টাঙ্গাইলে ব্রিজের রেলিং ভেঙে অন্যের জমিতে রাস্তা বানাচ্ছেন আ’লীগ নেতা

ভগ্নীপতিকে সাথে নিয়ে ব্রিজের রেলিং রাতের আধারে ভেঙে বোনের বাড়ি যাওয়ার রাস্তা তৈরি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম ওরফে বাবু খানের বিরুদ্ধে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের চরবিলসা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। গ্রামবাসী এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকি ধমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে ওই নেতার বিরুদ্ধে। আজ বুধবার স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।



উপজেলা প্রকৌশল অফিস (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ২০০২-২০০৩ অর্থ বছরে চরবিলসা গ্রামের খালের ওপর ২০ মিটার দৈর্ঘ্য একটি ফুট ব্রিজ নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। ওই ব্রিজটি নির্মাণ হওয়ার পর গ্রামের মানুষ সহজে বারিন্দা বাজারসহ উপজেলা সদরে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করে। গত শনিবার(২৮ নভেম্বর) ওই ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম ওরফে বাবু খান তার বোনের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা সহজ করতে খালের ওপর নির্মিত ব্রিজের রেলিং ভেঙ্গে ফেলেন। ব্রিজের রেলিং ভেঙে বাবু খান এবং তার ভগ্নীপতি মঞ্জুর রহমান (মজনু খান) চান মিয়া নামের এক ব্যক্তির জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ শুরু করেন। এলাকাবাসী এর প্রতিবাদ করলে বাবু খান উল্টো তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি ধমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।



যেকোনো মুহূর্তে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে বাবু খান ও তার ভগ্নীপতি মঞ্জুর রহমান এলাকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে এলাকার নিরীহ মানুষকে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় হয়রানীর অভিযোগ রয়েছে।

জমির মালিক চান মিয়ার ছেলে আব্দুল হক ও ফজলুল হক বলেন, আমাদের না জানিয়েই বাবু খানের ভগ্নীপতি মঞ্জুর রহমান (মজনু খান) বাড়ি যাওয়ার রাস্তা আমাদের জমির ওপর দিয়ে বানানো হচ্ছে। আনাইতার ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার লুৎফর রহমান বলেন, ব্রিজ ভেঙে রাস্তা করার খবর পেয়ে বাধা দিতে গেলে বাবু খান তা কর্ণপাত না করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আনাইতার ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বেল্লাল হোসেন বলেন, ব্রিজের রেলিং ভেঙে যে রাস্তা নির্মাণ করছে তা কোন ভাবেই ঠিক হয়নি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বাবু খান বলেন, গ্রামবাসীর স্বার্থে রাস্তা তৈরির কাজ চলছে। এ কাজের সাথে আমি জড়িত নই। তার ও তার ভগ্নীপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।



এ ব্যাপারে আনাইতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ব্রিজ কালভার্ট সরকারি সম্পদ। এটা ভেঙ্গে ফেলার একতিয়ার কারও নেই। যারা সরকারি ব্রিজ ভেঙ্গে নিজেদের স্বার্থের জন্য জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করবে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, এলাকা পরিদর্শন করে ব্রিজের রেলিং ভাঙার সত্যতা পাওয়া গেছে। এবিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(দৈনিক যুগান্তর)

error: Content is protected !!