টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্যাথলজিস্ট এর বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

টাঙ্গাইলের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের টেকনিশিয়ান জহির এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের সরকারি টাকা আতœস্বাতসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও চরম দূর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে। তিনি বর্তমানে কালিহাতি উপজেলার এলেঙ্গাতে বসবাস করছেন।
জহির দীর্ঘ এক বছর যাবত টাঙ্গাইল সদর জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজী বিভাগে টেকনিশিয়ান হিসাবে কাজ করছেন। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল সদর জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে মোট তিন জন টেকনোলজিস্ট কাজ করছেন। তার মধ্যে জহির অন্যতম। প্যাথলজি বিভাগে কর্মরত জহির এর নামে দীর্ঘদিন যাবত সদর হাসপাতালের সরকারি টাকা আত্মসাৎ এবং বিাভন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ চলে আসছে। এতে করে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের পোহাতে হচ্ছে রন্ধ্রে রন্ধ্রে হয়রানি ও ভোগান্তি।

সরেজমিনে জানা যায়, জেনারেল হাসপাতালে আসা অসুস্থ রোগীদের জরুরী বিভাগ ও ভর্তি রোগীদের ওয়ার্ড থেকে প্রয়োজনীয় টেস্ট করতে দিলে তা সরকারি হাসপাতালের নির্ধারিত ১০৬নং রুমে রশিদ কেটে টেস্টের নির্ধারিত ‘ফি’ এর টাকা হাসপাতালের সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও এখানে দেখা যাচ্ছে তার ভিন্নচিত্র।



গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা রোগীরা জরুরী বিভাগে ডাক্তার দেখানোর পর ডাক্তার রোগীকে প্রয়োজন অনুযায়ী টেস্ট দিলে গ্রাম থেকে আসা অনেকেই প্রয়োজনীয় টেস্টের কাগজ নিয়ে সঠিক পক্রিয়া বুঝতে না পেরে সরাসরি চলে যায় প্যাথলজিতে। সেখান থেকে তাদেরকে টেস্টের মূল্যমান রশিদ কেটে আসতে না বলে গুটিকয়েক দালালের মাধ্যমে কিছু কমিশনে জহির নিজ দ্বায়িত্ব অগ্রাধিকার ভিওিতে করে দিচ্ছেন সেই সব রোগীদের টেস্ট। এভাবেই রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন অবৈধ টাকা । ফলে রশিদ কেটে টেস্টের রির্পোট পেতে বিড়ম্বনা আর ভোগান্তিতে পড়ছেন জহিরের সাক্ষাত না পাওয়া সেই সব হতভাগ্য রোগীরা।
প্রমাণক ১.
কালিহাতি উপজেলার কুবডহরা ইউনিয়নের জয়নাবাড়ী গ্রামের রেজাউর করিম (৬০)। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করলে সদর হাসপাতালে এসে কোভিট টেস্ট করান। রেজাউর করিম বলেন টেস্টের জন্য শুধু আমি জহির এর হাতে নগদ টাকা দিয়েছি। বিনিময়ে কোন টাকার রশিদ আমাকে দেয়া হয়নি।
প্রমাণক ২.
মগড়া ইউনিয়নের বেতবাড়ী গ্রামের কেতাব আলী (৫২) সাময়িক ঠান্ডাজ¦র নিয়ে কোভিট টেস্ট করাতে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে গেলে তার কাছ থেকেও হাতে টাকা নেয় জহির । তাকেও দেয়া হয়নি কোন রশিদ।
প্রমানক ৩.
ঘাটাইল উপজেলার বাইচাইল গ্রামের শশী আক্তার (৩২) অসুস্থতা নিয়ে সদর জেনারেল হাসপাতালের কভিট ওয়ার্ডে ভর্তি হন। পরে জহির তার কাছ থেকে নগদ টাকা হাতে নিয়ে স্যাম্পল টেস্ট করিয়ে দেন। বিনিময়ে তাকেও কোন রিসিট দেয়া হয়নি।



প্রমাণক ৪. আরেকজন বাসাইল উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের তিরঞ্জ গ্রামের মিনহাজ বেপারী (৫৬) বলেন, আমি অসুস্থতা নিয়ে সদর হাসপাতালে কোভিট পরীক্ষা করতে গেলে আমিও জহিরের হাতে টাকা দিয়েছি । বিনিময়ে আমাকেও কোন রশিদ দেয়া হয়নি।
প্রমাণক ৫. এছাড়াও হাসপাতালে আসা রোগী কল্পনা আক্তার (৩৬), বিলকিস বেগম (৩৫), শাহিনা আক্তার (৪০), কমল মিয়া (৪০), রুমি (২৫), ফাহিমা (২৫), নার্গিস আক্তার (৪৫), রাবেয়া খানম (২৯) এবং ৬ নং ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী পলাশ সূত্রধর (৪৫) এদের সাথেও ঘটেছে একই ধরনের ঘটনা

শুধুু তাই নয়, জহির এর রোস্টার কার্যদিবসে প্রায় বেশিরভাগ ভর্তি রোগীদের কাছ থেকে তার কয়েকজন দালালের মাধ্যমে টেস্টের কাগজ সংগ্রহ করে নিজেই টাকা নিয়ে রিপোর্ট পৌছেঁ দেন রোগীদের হাতে। এভাবেই সরকারি টাকা অবধৈভাবে লুটে নিচ্ছেন সদর জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের জহির । এছাড়াও অভিযুক্ত জহির হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের টেস্টের কাগজ বাইরের ক্লিনিক থেকে করিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন অবৈধ টাকা।



এ বিষয়ে প্যাথলজি বিভাগের টেকনিশিয়ান জহির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ মিথ্যা । পরবর্তীতে সদর হাসপাতালে জহির এর কার্যদিবসের কয়েকটি টেস্টের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন টাকা জমা দেয়ার রশিদ দেখাতে পারেনি। পরবর্তীতে এসব বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে জহির বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনাটি টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডা. সদরউদ্দিনকে মুঠো ফোনে অবহিত করলে তিনি জানান, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সূত্র-প্রতিদিনের ডাক)

error: Content is protected !!