টাঙ্গাইলে ধর্ম অবমাননাকারী সেই শিক্ষক মুচলেকা ও কালেমা পাঠে মুক্ত 

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নয়ান খান মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্ম অবমাননাকারী শিক্ষক Theories and Thoughts বইয়ের লেখক মনির হোসেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রচলিত ধর্ম অবমাননাকারীর সাজা না পেয়ে নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত মুচলেকা ও স্থানীয় ওলামায়ে কেরামের নিকট কালেমা পাঠ করে মুক্তি পেয়েছে।



এদিকে এই সংবাদ সংবাদকর্মীগণ জানতে পেরে তা দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার অনলাইন ভার্সনসহসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিককে প্রকাশিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার কামনায় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।
উল্লেখ্য, শিক্ষক মনির হোসেন বইটিতে Theories and Thoughts স্রষ্টা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য উপস্থাপন করে ছাত্রছাত্রী ও সাধারণের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করেছে।



মনির হোসেন তার লেখা Theories and Thoughts বইটিতে ৪৩ পৃষ্ঠায় ৫১৮ নং বাক্যে উল্লেখ করেন- ’ÕThere is no God and no saitan but man and both of them are available in man.’ অর্থ- স্রষ্টা নাই, শয়তানও নাই, কিন্তু মানুষ আছে। আর মানুষেই ও দুটো আছে। তিনি ৪৬ পৃষ্ঠায় ৫৩৬ নং বাক্য আরো উল্লেখ করেন-Creator is an opportunist,liquid substance. অর্থ- স্রষ্টা হচ্ছে একটি সুবিধাবাদী তরল পদার্থ। মনির হোসেনের প্রকাশিত Theories and Thoughts বইটি ‘দি নাগরপুর অফসেট প্রেস’ থেকে প্রকাশ করা হলেও প্রেসের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি প্রশাসন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাগরপুর বাজার জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, এটি একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। আমরা মুসলমান হিসাবে এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। ’ঞযবড়ৎরবং ধহফ ঞযড়ঁমযঃং’ বইটি প্রকাশিত হবার পর প্রথমে আমাদের স্থানীয় ওলামায়ে কেরামগণের হাতে আসে। এ সময় আমরা সঙ্ঘবদ্ধভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও স্কুল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। পরে এ নিয়ে নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে বৈঠক করে অভিযুক্ত শিক্ষককে হাজির করে লিখিত মুচলেকা ও কালেমা পাঠ করিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।



নয়ান খান মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমলেন্দু সোম রাম বলেন,ধর্ম অবমাননাকারী শিক্ষক ও Theories and Thoughts বইয়ের লেখক মনির হোসেনকে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্কুল থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত-ই-জাহান বলেন, স্থানীয় ওলামায়ে কেরামগণের মাধ্যমে বই প্রকাশের বিষয়টি জানতে পারি ও বইটি নিজে পড়েছি। তাতে কিছু অশালীন বক্তব্য ও স্রষ্টাকে নিয়ে ধর্ম অবমাননাকর বক্তব্য রয়েছে। স্থানীয় ওলামায়ে কেরামগণের কাছে সে তার ভুল বুঝে ক্ষমা চেয়েছে, তওবা করেছে।



এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেন লিখিত মুচলেকা দিয়েছে। এটি একটি ফৌজদারী অপরাধ। কেউ যদি এ বিষয়ে অভিযোগ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গৃহিত হবে

error: Content is protected !!