অবসরে লেকে মাছ ধরেন, সেলাই করেন প্রধানমন্ত্রী

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের রাষ্ট্রীয় কাজ সামলে অবসর সময় কীভাবে কাটান সেটা সাধারণ মানুষের জানার ভীষণ কৌতূহল থাকাটাই স্বাভাবিক। একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, অন্য দশজন মানুষের মতো তার জীবন কাটে না।

ব্যস্ত সময়ের মধ্যেও তিনি কখনও কখনও সাদাসিদে আটপৌড়ে জীবন যাপন করেন।এরআগে নানা সময় গণভবনে স্বজনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর রান্নার ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। নিজ হাতে রান্না করতে পছন্দ করেন- এমন কথা প্রধানমন্ত্রী নিজেও বলেছেন। এবার তাকে দেখা গেল আপন মনে মেশিনে বসে সেলাই করতে। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনের লেক থেকে বড়শি হাতে মাছ ধরতেও দেখা গেছে সরকারপ্রধানকে।



প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিল্পপতি আহমেদ সালমান ফজলুর রহমান (সালমান এফ রহমান) তার ফেরিভাইড ফেসবুক পেজে এমন দুটি ছবি পোস্ট করেছেন।শনিবার বিকালের দিকে পোস্ট করা ছবিতে দেখা যায়, সিঙ্গার কোম্পানির একটি সাদা রঙের মেশিনে বসে কিছু একটা সেলাই করছেন প্রধানমন্ত্রী।অন্য একটি ছবিতে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বড়শিতে গাঁথা বড় আকারের একটি তেলাপিয়া মাছ নিয়ে সুতা উঁচিয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। চোখে-মুখে তৃপ্তির ছাপ।তার পেছনে দেখা গেছে, দুটি বড়শি লেকে পাতা আছে। পাশে একটি বেতের মোড়া।

ধারণা করা হচ্ছে, সাতসকালে হাঁটাহাটি শেষে মোড়ায় বসে নিজ হাতেই বড়শিতে মাছ শিকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী।



ছবি দুটি পোস্ট করে সালমান এফ রহমান লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন সম্পূর্ণ মানব। তিনি সাফল্যের সঙ্গে ১৭০ মিলিয়ন বাংলাদেশির ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। এক মিলিয়ন রোহিঙ্গা মুসলমানকে আশ্রয় দিয়েছেন। কিন্তু এখনো তিনি রান্না, মাছ ধরা এবং সেলাই উপভোগ করার জন্য সময় খুঁজে পান।’প্রসঙ্গত, চলতি বছর গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী সংসদে সকালে উঠে মাছ ধরার কথা জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, সকালে উঠে আমি জায়নামাজ খুঁজি। সকালে উঠে আগে নামাজ পড়ি। নামাজ শেষে কোরআন তিলাওয়াত করি। তারপর এক কাপ চা নিজে বানাই। সকালের চা আমি নিজে বানিয়ে খাই।চা-কফি যাই বানাই নিজে বানিয়ে খাই। ছোট বোন বাসায় থাকলে দুজনের যে আগে ওঠে সে বানায়। মেয়ে পুতুল আছে। সেও আগে উঠলে বানায়। তার আগে ঘুম থেকে ওঠার পর নিজের বিছানাটা গুছিয়ে রাখি।



এরপর বই-টই যা পড়ার পড়ি।আর ইদানীং করোনাভাইরাসের পরে সকালে একটু হাঁটতে বের হই। তবে আরেকটা কাজ করি এখন। সেটা বললে কী হবে (হেসে ফেলেন)। গণভবনে একটি লেক রয়েছে। হাঁটার পরে লেকের পাড়ে যখন বসি, তখন ছিপ নিয়ে বসি। মাছ ধরি।

error: Content is protected !!