বাবা-মাকে তাড়িয়ে দিলেন ছেলেরা; গ্রামবাসীদের সহায়তায় ঠাঁই পেলেন তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক : জমি লিখে নেওয়ার পর অসহায় বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন দুই ছেলে। পরে নিরুপায় হয়ে তারা থাই নিয়েছেন খোলা আকাশের নিচে। এমনই ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের গুচ্ছ গ্রামে।

শুক্রবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে গুচ্ছ গ্রামের রাস্তার পাশের জমিতে একটি চৌকি বসানো রয়েছে। চৌকির ওপর টানানো রয়েছে মশাড়ী।



চৌকির পাশেই রান্না করছেন বয়সের ভারে ন্যুব্জ মেহেরুন বেগম (৬৫)। আর চৌকিতে ঘুমিয়ে রয়েছে তার স্বামী আব্দুল খালেক (৭০)। আপনারা এখানে কেন? জিজ্ঞাসা করতেই বৃদ্ধা মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন- ‘আড়াই মাস ধরে আমার দুই ছেলে আমাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। পরে থাই নিই আমার ভাইয়ের বাড়িতে। এরপর সেখান থেকে চলে এসে গত চারদিন ধরে এই খোলা আকাশের নিচে চৌকি বসিয়ে বসবাস করছি। রান্না করার মতো কিছুই নেই আমাদের কাছে। কিছু না থাকায় আশপাশের অনেকেই চাল ও দরকারী দিয়ে যাচ্ছে। এই বয়সে রান্না করতে পারি না বাবা। তারপরও কষ্টে রান্না করে আমরা দুই বুড়ো-বুড়ি খাচ্ছি। আমাগো একটা ব্যবস্থা করো বাবা?



তিনি আরও বলেন, ‘আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলেরা বিয়ে করেছে অনেক আগেই। আর মেয়েরও বিয়ে হয়েছে। দুই ছেলেই বিদেশ গিয়েছিল। এখন তারা ব্যবসা করছে। প্রায় ৩ বছর আগে আমার দুই ছেলের নামে ৬ শতাংশ করে ১২ শতাংশ বাড়িভিটা লিখে দিই। আর গত ৩ মাস আগে আমার স্বামী আব্দুল খালেক আমার নামে চকের ৩২ শতাংশ জমি লিখে দেন। এরপর দুই ছেলে বাবলু ও কাদের সেই ৩২ শতাংশ জমি লিখে নিতে চাপ প্রয়োগ করে। এই ৩২ শতাংশ জমি লিখে না দেওয়ার কারণে দুই ছেলে আমাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।’



মেহেরুন বেগমের স্বামী আব্দুল খালেক বলেন, ‘ছেলেরা আরও জমি লিখে যাচ্ছে। আমারা দিতে রাজি না হওয়ায় ছেলেরা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।’

স্থানীয় চম্পা বেগম বলেন, ‘বাড়িভিটা ১২ শতাংশ জমি দুই ছেলের নামে লিখে দিয়েছেন তারা। এরপর মেহেরুন বেগমের নামে ৩২ শতাংশ চকের জমি তাদের দুই ছেলে লিখে নিতে চাচ্ছে। কিন্তু তারা দিতে রাজি নন। এ কারণে গত আড়াই মাস ধরে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে ছেলেরা। পরে তারা অন্য একজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। সেখান থেকে তারা গত চারদিন ধরে এই খোলা আকাশের নিচে চৌকি বসিয়ে বসবাস করে আসছে।’



স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা খান বাহাদুর বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আজকের মধ্যেই তাদের বাড়িতে উঠিয়ে দেয়া হবে।’

এদিকে দুপুরে ওই অসহায় বাবা-মায়ের ছেলেদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে জানতে পারি তারা কোনও এক আত্মীয় বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত খেতে গিয়েছে। এরপর রাত ৮টার দিকে স্থানীয় গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে ওই অসহায় বাবা-মাকে তাদের বাড়িতে উঠিয়ে দিতে যায়। এ সময় ছোট ছেলে কাদেরের সঙ্গে হাতাহাতি হয় গ্রামবাসীর। এক পর্যায়ে তাদের বাড়িতে তুলতে বাধ্য হয় ছেলেরা।
(বাসাইল সংবাদ)

error: Content is protected !!