দেশে করোনার সংক্রমণ আবারো উর্ধ্বমুখী! স্বাস্থ্যবিধি মানার তাগিদ!

দেশে করোনার সংক্রমণ আবার ঊর্ধ্বমুখী। গত কয়েকদিন ধরেই শনাক্ত ক বাড়ছে। প্রতিদিনের শনাক্তের হারও বৃদ্ধির দিকে। দশ সপ্তাহের মধ্যে গতকাল সর্বাধিক শনাক্ত ২১শ’র কোটা ছাড়িয়েছে।



বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণের গতি কয়েকদিন বৃদ্ধি পেয়েছে। সংক্রমণের এই গতি আগামী এক সপ্তাহ চলতে থাকলে বলা যাবে দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে। তারা বলছেন, শনাক্তের বাইরেও কয়েকগুণ রোগী অশনাক্ত থেকে যাচ্ছে। শীতও শুরু হয়েছে।



এর মধ্যেই দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা বাড়ছে। ইতিমধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কাবু হয়ে পড়েছে। তারাও আবার কড়া বিধিনিয়ম চালু করেছে।

দেশে সরকারি হিসাব মতে, দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৬ হাজার ২শ’ ছাড়িয়েছে। সাড়ে ৮ মাসে শনাক্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি। দেশে ৮ই মার্চ প্রথম করোনা শনাক্ত হয় আর প্রথম মৃত্যু ১৮ই মার্চে। প্রথম থেকেই করোনার থাবা ঢাকাতে। হটস্পট ছিল রাজধানী।



দিনে দিনে সারা দেশে ছড়ালেও রাজধানীতেই অর্ধেকের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়গুলো শিথিল হওয়ায় পরিস্থিতি রাজধানীতে আবার সংক্রমণ বাড়ছে।বিশেষজ্ঞদের মত, মানুষের মধ্যে সার্বজনীনভাবে মাস্ক ব্যবহার, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়ার অভ্যাস বাড়ানো এবং পরীক্ষা ও আইসোলেশনের মতো স্বাস্থ্যবিধির কঠোর প্রয়োগের ওপর এ রোগের বিস্তার অনেকটা নির্ভর করবে।

এদিকে করোনাভাইরাসের কার্যকর কোনো টিকা না আসা পর্যন্ত এ মহামারি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম উল্লেখ করে শীতকালে বাংলাদেশে এ ভাইরাসটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।



তাদের আশঙ্কা, আর্দ্রতা, সূর্যের তাপ, ভিটামিন ডি-এর অভাব এবং রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায়সহ শীতকালে অন্যান্য ভাইরাস ও ফ্লু জাতীয় শ্বাসকষ্টের রোগের লক্ষণ দেখা দেয় বলে এ সময় মানুষ করোনাভাইরাস নিয়ে আরো বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠতে পারে।

এজন্য সবার সচেতনতার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানা ও মাস্ক ব্যবহারের বিকল্প কিছু ভাবছেন না বিশেষজ্ঞরা।

(লেখকঃ সচেতন নাগরিক)

error: Content is protected !!