ঘাটাইলে কলা চাষে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন সাগরদিঘীর চেয়ারম্যান

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী পাহাড়ি এলাকায় সবুজ পাতায় ঢাকা চোখ জুড়ানো সারি সারি কলা গাছই বলে দেয় ব্যাপক ফলনের কথা। বেশ কয়েকটি জাতের কলা চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আর থরে থরে ঝুলে থাকা কলার কাঁদিতে কাঁদিতে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কলা চাষী সাগরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার।



টাঙ্গাইলের পাহাড়ি উত্তর-পূর্বাঞ্চলগুলো উচু ভূমি থাকার কারণে কলা চাষের জন্য উপযোগি। কলা গাছ প্রায় সব ধরনের মাটিতে জন্মে এবং সব মৌসুমেই এ ফল পাওয়া যায়। এমনকি পরিত্যক্ত জমিতেও কলার আবাদ করা যায়। চাষিদের এ ধারনা অনুসরণ করে বেকার যুবকরাও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কলা চাষ করে সাবলম্বী হতে পারে।

টাঙ্গাইলে প্রায় সব অঞ্চলেই কলা চাষ হয়ে থাকে। তবে পাহাড়ি অঞ্চল, ঘাটাইলের সাগরদিঘী, সখীপুর উপজেলা, মধুপুর চাষের জন্য বিখ্যাত।



‘কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত।’ খনার এ বচন থেকেই বোঝা যায় কলা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। অন্য ফলের তুলনায় কলা সস্তা, সহজলভ্য ও পুষ্টিকর। এছাড়া সারা বছর এ ফল হাতের কাছে পাওয়া যায়। তাই লাভজনক ফল হিসেবে কলা চাষের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সাগরদিঘী ইউনিয়নের মালির চালা গ্রামের ১০বিঘা জমিতে সবুজ পাতায় ঢাকা চোখ জুড়ানো সারি সারি কলা গাছ আর থরে থরে ঝুলে আছে কলা।



কলা চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পর্যাপ্ত রোদ, পানি নিষ্কাষন ও উঁচু জমি কলা চাষের জন্য উপযুক্ত। উর্বর দো-আঁশ মাটি কলা চাষের জন্য উত্তম। চাষ ও মই দিয়ে জমি সমতল ও আগাছামুক্ত করতে হয়। চারা রোপণের মাসখানেক আগেই গর্ত খনন করতে হয়। গর্তের আকার হবে ৬০ সেমি. চওড়া ও ৬০ সেমি. গভীর। গর্ত তৈরি হয়ে গেলে গোবর ও টিএসপি সার মাটির সাথে মিশিয়ে গর্ত ভরে রাখতে হবে। পরে সারি সারি করে চারা রোপন করতে হয়। এক্ষেত্রে প্রতি সারির দূরত্ব হবে ২ মিটার। চারা রোপণের সময় মাটিতে পর্যাপ্ত রস না থাকলে সেচের ব্যবস্থা রাখতে হয়।



এছাড়া শুকনো মৌসুমে ১৫-২০ দিন পর পর সেচ দেয়া হয়। বৃষ্টির সময় কলা বাগানে যাতে পানি জমতে না পারে তার জন্য প্রতিটি সারির মাঝে নালা রাখা হয়।

সাগরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কলা চাষী হেকমত সিকদার ঘাটাইল ডট কমের সাথে আলাপকালে বলেন, আমি ১০বিঘা জমিতে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কলার চারা রোপন করেছি।



কলাগাছ রোপনের পর থেকে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা। এ বছর কলার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। আবহাওয়া যদি অনুকূলে থাকে আশা করি ২৭ থেকে ২৮ লাখ টাকা কলা বিক্রি করতে পারবো ।

(ঘাটাইল ডটকম)

error: Content is protected !!