মির্জাপুরে জোড়ান মার্কেট থেকে নয়েচ বাজার রাস্তার বেহাল দশা! সংস্কারের দাবী এলাকাবাসীর

টাংগাইল জেলার মির্জাপুর থানার বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ড সম্বলিত জোড়ান মার্কেট নয়েচ বাজার রাস্তার বেহাল অবস্থা।

রাস্তাটি পাকিস্থান আমলে হওয়ার পর বাঁশতৈল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম কেয়াম উদ্দিন সরকার প্রায় ৪০ বছর পূর্বে সংস্কার করে চলাচলের ব্যবস্থা করেন। তারপর কয়েক বছর পূর্বে জোড়ান মার্কে হতে বৃহত্তর ময়মনসিংহ প্রকল্পে ৫০০ মিটার পাকা হলেও বাকি তিন কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। রাস্তাটি দিয়ে আমরাতৈল সরকারি প্রাঃ বিদ্যালয়, দরানী পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, খলিলুর রহমান ডিগ্রী কলেজের অসংখ্য শিক্ষার্থী শিক্ষক সহ আশে পাশের আমরাতৈল, পেকুয়া, দরানীপাড়া, হাতিবান্ধা, ডৌহাতলী গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের চলাচল।



এছাড়া মির্জাপুরের সবচেয়ে বড় গরুর হাট কাইতলা হাট, তক্তারচালা হাট, নয়েচবাজার হাট, জোড়ান মার্কেটের হাট, বাঁশতৈল হাট ও পাথরঘাটা হাটের অসংখ্য লোক চলা চল করেন।
কাতার প্রবাসী মোঃ আব্দুল বারেক এর স্ত্রীর চলতি মাসে সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ। তাকে চেকআপ করার জন্য হাসপাতালে নেয়া প্রয়োজন হলেও রাস্তা বেহাল অবস্থার কারণে নেয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি সামনে প্রসবের সময় কি হবে তা নিয়ে পরিবারটি ভীষন চিন্তায় রয়েছ।



মোঃ হাফিজ উদ্দিনের স্ত্রী হাড় ক্ষয় জনিত রোগী। তাকে মাঝে মাঝে কুমুদিনী হাসপাতালে নিতে হয় চিকিৎসার জন্য। কিন্তু বিগত চার পাঁচ মাসেও নেয়া সম্ভব হয়নি।
গ্রামের কয়েক জন চাকুরিজীবী রয়েছেন। যারা রাস্তার কারণে মাত্র ৮,১০ কিঃ মিঃ দুরে বাসা ভাড়া থেকে অফিস করেন।

গ্রামের কৃষক মোঃ হযরত আলী, মোঃ সুনামউদ্দি, মোঃ ছালাম, মোঃ সোমেজ বলেন তাদের ঘরে বিক্রির মতো অনেক ধান থাকা সত্বেও রাস্তার কারণে বিক্রি করতে পারতেছে না। তাছাড়া শাকসবজ্জ বিক্রি করতে নিজের কাঁধে করে বাজারে নিতে হয়।



মোঃ জালাল, মোঃ বাবুল, মোঃ আলেফ এবং মোঃ চাঁন মাহমুদ সিএনজির ব্যবসায়ী। রাস্তার কারনে সিএনজি বাড়িতে আনতে না পাড়ায় বাজারে রেখে আতঙ্গে রাত কাটান বর্ষা মৌশুমে।

গ্রামে কয়েকজন মুরগী ও মুদি ব্যবসায়ী থাকলেও রাস্তার কারণে কাঁচামাল সহ অন্যান্য সব প্রয়োজনী দ্রব্য আনা সম্ভব হয়না বলে তারা ব্যবসা বন্ধ রেখেছেন।
৪ নং ও ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার জনাব মোঃ শাহজাহান ও মোঃ জোনাব আলী বলেন, রাস্তাটি অতি প্রাচীন এবং কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচল যা পাকা করা অতি জরুরী।

বাঁশতৈল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জনাব মোঃ আতিকুর রহমান মিল্টন বলেন, রাস্তাটির বেপারে আমি অবগত আছি।



এমপি মহোদয়কে জানানো হয়েছে। অতিশীঘ্রই রাস্তাটির চলাচলের উপযোগী করা হবে বলে আশাব্যক্ত করেন।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, জনাব আজহারুল ইসলাম বলেন, আমি সরজমিনে কয়েকবার ওখানে গিয়েছি। রাস্তার বেহাল পরিস্থিতি আমি নিজ চোখে দেখে বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান ও এমপি স্যারকে জানিয়েছি।

রাস্তাটি পাকা হলে ১০ হাজার মানুষের ব্যাপক উপকার হবে।

error: Content is protected !!