দেশসেরা শ্রেষ্ঠ স্কুল টাঙ্গাইলের বাইমহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাইমহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০২০ সালের জন্য জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় টাঙ্গাইলের সাবেক জেলা প্রশাসক ও বর্তমানে ঢাকা জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম ২০২০ সালের জন্য টাঙ্গাইল জেলার শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত হয়েছেন।



গত সোমবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ফলাফল ঘোষণা করেছেন বলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মিসেস হোসনেয়ারা বেগম জানিয়েছেন। ২০১৯ সালেও এই বিদ্যাপীঠ জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছিল। টানা দুই বার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় নির্বাচিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং উপজেলা প্রশাসনসহ সর্বত্র উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
আজ সোমবার ( ২ নভেম্বর) বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষক নেতা মো. ফরহাদ হোসেন জানান, টাঙ্গাইল জেলার মধ্যে মির্জাপুর উপজেলা সদরের ২৩ নং বাইমহাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে শিক্ষার মনোরম পরিবেশ, নিয়ম শৃংখলাসহ শিক্ষার পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর। বর্তমান প্রধান শিক্ষিকা হোসনেয়ারা বেগম, তার নেতৃত্বে সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং দক্ষ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের অক্লান্ত শ্রমের ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ দিন দিন উন্নতির দিকে যাচ্ছে।



ভাল ফলাফলের পাশাপাশি এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা, নাচ, গান, শরীর চর্চা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও উপজেলা, জেলা, অঞ্চল, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সুনাম অর্জন এবং পুরষ্কার লাভ করে আসছে। প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত পরিবর্তন ও মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ে শিশুদের ঝড়ে পরা রোধ, সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ জিপিএ-৫ এবং ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভসহ কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই বিদ্যালয়কে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ স্কুল নির্বাচিত করেছেন।
গত ২০১৯ সালের ১৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মির্জাপুর উপজেলার ২৩ নং বাইমহাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পক্ষে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হোসনেয়ারা বেগমের হাতে এ পুরষ্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম আল হোসাইন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক(ডিজি) মো. মঞ্জুর কাদের, প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি মন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রী মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার উপস্থিত ছিলেন।



এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হোসনেয়ারা বেগম ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান বলেন, স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ এবং এলাকাবাসীসহ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের সার্বিক ফলাফল ও শিক্ষার পরিবেশর দিন দিন উন্নয়নের দিকে যাচ্ছে। নানা সমস্যার মধ্যেও আমরা বিদ্যালয়ের ফলাফল ও সুনাম ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। বিদ্যালয়টির দিকে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রী, শিক্ষা সচিব ও মহা পরিচালক মহোদয় একটু নজর দেবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।



মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, বাইমহাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দেশের অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ভিন্নধর্মী প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়টির সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রশাসন থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এসআই

error: Content is protected !!