সখীপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন গর্ভবতী মেয়ের পাশে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন

অবশেষে মানসিক ভারসাম্যহীন গর্ভবতী সেই মেয়েটার পাশে দাঁড়িয়েছে সখীপুর থানা পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
মানসিক ভারসাম্যহীন সম্পার বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের গড়বাড়ি এলাকার বারমুন্ডুলিয়া গ্রামে। বাবা মৃত পাঞ্জু মিয়া। মায়ের নাম শহর বানু।


২৬ বছর বয়সের মানসিক ভারসাম্যহীন সম্পার ছোটবেলায় বাবা মারা গেছেন । জীবিকার তাগিদে অন্যের বাড়ি ঘুরে ঘুরে কাজ করে দরিদ্র মা। ছেড়া ও অনেকটা ময়লা কাপড় পড়েই সারা দিন ঘোরাফেরা করে সম্পা। সম্প্রতি সখীপুর পৌর শহরেই তাকে বেশি ঘুরাফেরা করতে দেখা গেছে। এছাড়া আট-দশ বছর বয়স থেকেই সে ঘুরে বেড়ায় বিভিন্ন হাটবাজারে। দোকানের সামনে দিয়ে ঘুরাঘুরি করে। কেউ খাবার দিলে খায়, না দিলে অনাহারেই কাটে তার দিন।


ইচ্ছে হলে মায়ের কাছে যায়, না হলে যেখানে রাত সেখানেই ঘুমিয়ে পড়ে এই সম্পা। অযত্ন-অবহেলায় বেড়ে উঠা মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়েটি এখন আট মাসের গর্ভবতী।মানসিক ভারসাম্যহীন সম্পা জানে না কে তার সন্তানের বাবা। পিতৃপরিচয় না থাকায় কেউ তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসেনি। এর মধ্যে ভালো খাবারও জোটেনি তার।
যে কারণে পুষ্টিহীন ও দুর্বল হয়ে পড়ে গর্ভবতী সম্পা।


গতকাল বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়। অতঃপর পুলিশ তার নাম ও ঠিকানা সংগ্রহ করে। ওই রাতেই সম্পা ও তার মাকে খুঁজে বের করেন সখীপুর থানার পুলিশ। তারপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তাকে উন্নত চিকিৎসা ও মেডিকেল চেকআপ করেন ডাক্তার। মা হিসেবে তার শারীরিক অবস্থা নাজুক থাকায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ডাক্তারের পরামর্শে সখীপুরের ‘উৎসর্গ ফাউন্ডেশন’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গর্ভবতীর জন্য রক্তের ব্যবস্থা করে। বিভিন্নভাবে ওই ফাউন্ডেশনের ৭/৮ জনের একটি সদস্য দল সম্পাকে সহযোগিতা করছে।



ওই রাতেই সম্পাকে নতুন জামা-কাপড়, জুতা, সাবানসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে হাসপাতালে আসেন সখীপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন। এ সময় সখীপুর থানার পুলিশ পরির্দশক (তদন্ত) এ.এইচ.এম লুৎফুল কবির, সখীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাকিল আনোয়ার, উৎসর্গ ফাউন্ডেশনের সভাপতি নাফিস হাসান রুজ, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল সিকদারসহ কয়েকজন সদস্য উপস্থিত হন।
মো. আমির হোসেন বলেন, বিষয়টি নিতান্তই মানবিক। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে ওই মানষিক ভারসাম্যহীন গর্ভবতী মেয়েটাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার ব্যবস্থা করি। হাসপাতালকে বলেছি, মেডিকেল চেকআপ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিন। এছাড়া আমি নিজেই ডাক্তারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে খোঁজখবর নিচ্ছি। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে বলেছি, টাকার প্রয়োজন হলে আমাকে জানাতে।



উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আর.এম.ও) ডা. শাহীনুর আলম বলেন, মেয়েটার চিকিৎসা না হলে শাররীকভাবে দুর্বল ও রুগ্ন হয়ে পড়ত। ওর সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে বাচ্চা হওয়ার আগ পর্যন্ত ওকে হাসপাতালে ভর্তি রাখার ব্যবস্থা করছি।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, মেয়ের পাশে চুপচাপ বসে আছেন মা শহর বানু।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি সম্পা মানুসিক ভারসাম্যহীন। কোনোভাবেই তাকে বাড়িতে রাখতে পারতোনা। সম্পার মা শহর বানু এই ভারসাম্যহীন মেয়েকে নিয়ে এসে বারমুন্ডুলিয়া গ্রামে বিয়ে করেন। পূর্বের ও পরের কোন বাবাই আর জীবিত নেই। খুব অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করে। কোনোমতে থাকার একটি ঘর আছে মাত্র ।



উৎসর্গ ফাউন্ডেশনের সভাপতি নাফিস হাসান রুজ বলেন, আমরা সাত/আট জনের একটি সদস্য দল এই অসহায় বোনটির পাশে আছি। ভবিষ্যতেও থাকবো

error: Content is protected !!