টাঙ্গাইলে বাল্যবিয়ের ৩৪ দিনের মাথায় রক্তক্ষরণে নববধূর মৃত্যু

টাঙ্গাইলের বাসাইলে নুর নাহার (১৪) নামের এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গত ৩৪ দিন পূর্বে তার বিয়ে হয়। ডাক্তার বলছেন মৃত্যুর পূর্বে মেয়েটির গোপনাঙ্গতে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছিলো। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোববার শনিবার (২৪ অক্টোবর ) রাতে তার মৃত্যু হয়।



পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কলিয়া মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নুর নাহার। পড়ালেখায় ছিল মেধাবী। স্কুল ছাত্রীর পরিবার অস্বচ্ছল হওয়ায় মেয়েটি তার নানার বাড়ি উপজেলার কলিয়া গ্রামে থাকতো। এক পর্যায়ে মেয়েটির উপজেলার ফুলকি পশ্চিম পাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে ৩৪ বছর বয়সী সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাস ফেরত রাজির খানের সাথে বিয়ে হয়।



তবে মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়ায় তাদের বিয়ের রেজিস্টি হয়নি। অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে হওয়ায় বিয়ের পর থেকেই তার যৌনাঙ্গে রক্তক্ষরণ হয়।

এক পর্যায়ে নুর নাহারের শশুরবাড়ির লোকজন তাকে কবিরাজ দিয়ে চিকিৎসা করান। রক্তক্ষরণ হলেও তার স্বামীর পাষ-তা বিন্দু পরিমাণ কমেনি। পরে গত ২২ অক্টোবর তাকে টাঙ্গাইলের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।



পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোরে তার মৃত্যু হয়। ঐদিন ময়নাতদন্ত শেষে তার নানার বাড়ির স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এ ব্যাপারে নুর নাহারের নানা লাল খান বলেন, ইতোপূর্বে মেয়েটির বিয়ের রাত থেকেই রক্তক্ষরণ হচ্ছে বলে জানিয়েছিল। এ জন্য নুর নাহারের শাশুড়ি তাকে গ্রাম্য কবিরাজের নিকট থেকে ঔষুধ খাওয়াচ্ছিলো। পরে রক্তক্ষরণ বেশি হলে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।



এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফিরোজুর রহমান বলেন, নারীর প্রথম যৌন মিলনে ভয় ও আতঙ্ক কাজ করে। অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে হলে রক্ত ক্ষরণ হতে পারে। এ জন্য দ্রুত গাইনী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল মতিন বলেন, পুলিশ অভিযোগটি তদন্ত করছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি জানাান।



error: Content is protected !!