টাঙ্গাইলে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ধরা খেয়ে জরিমানা; দুই ইউপি সদস্যসহ ৭জনের বিরুদ্ধে মামলা

টাঙ্গাইলের বাসাইলে রতন মিয়া নামের এক কাপড় ব্যবসায়ীকে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কাজের অভিযোগে গ্রাম্য সালিশে জরিমানার ঘটনায় দুই ইউপি সদস্যসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে রতনের বাবা মোশারফ হোসেন বাদি হয়ে বাসাইল থানায় এ মামলা দায়ের করেছেন।



মামলার আসামিরা হলেন- উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য ইসমাইল হোসেন ওরফে ছরোয়ার, ১নং ওয়ার্ডের সদস্য মনিরুজ্জামান ওরফে মনির, বাদিয়াজান গ্রামের বাসিন্দা শফিক, আজিবর, মিন্টু মিয়া, সেকান্দার ও হানিফ। কাপড় ব্যবসায়ী রতন মিয়া (৩০) উপজেলার ফুলকী ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের মোশারফ মিয়ার ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফুলকী ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী রতন মিয়া কাউলজানী ইউনিয়নের বাদিয়াজান গ্রামের কাতার প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে বাকিতে থ্রিপিচ বিক্রি করে।



এরপর গত ১৮ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে রতন মিয়া টাকা নেয়ার জন্য ওই গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় শশুরবাড়ির লোকজন রতন এবং ওই গৃহবধূকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে স্থানীয়দের ডেকে আনে। ওই ঘরে রতনকে আটকে রেখে মারধর করা হয়। পরেরদিন ওই গৃহবধূর শশুরবাড়িতে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করা হয়।



ওই সালিশে রতনকে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রতনের পরিবার নগদ পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা দিতে সময় চান মাতাব্বরদের কাছে। মাতাব্বররা বাকি টাকা দিতে রতনের পরিবারকে ১৫ দিন সময় বেঁধে দেন। ওই সালিশে তিনশ’ টাকার সাদা স্ট্যাম্পে রতনের বাবার স্বাক্ষর নেয়া হয়।



এদিকে ওই গৃহবধূর স্বামীর বাড়ির লোকজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ- ওই গৃহবধূর সঙ্গে রতনের দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। সেই সুবাদে রতন ওইদিন রাত ১০টার দিকে গৃহবধূর ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় টের পেয়ে বাড়ির লোকজন তাদের দুজনকে আটক করে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ মাতাব্বরদের খবর দেয়া হয়। ওইদিন সাড়া রাত তাদের দুজনকে এক ঘরের ভেতরে আটকে রাখা হয়।



এ ঘটনায় পরেরদিন অনৈতিক কাজের অভিযোগে গৃহবধূর শশুর ও বাবার বাড়ি এবং রতনের শশুর ও তার পরিবারের লোকজনের উপস্থিতিতে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করা হয়। সেখানে রতন এবং ওই গৃহবধূর পরিবারের লোকজনের সমন্বয়ে গঠিত জুরিবোর্ডে অভিযুক্ত রতনকে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ও গৃহবধূ তার স্বামীকে তালাক দিয়ে চলে যাবে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেসময় জরিমানার টাকা গৃহবধূর পরিবার পাবে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে ওই সালিশে স্থানীয় কাজির মাধ্যমে গৃহবধূ তার স্বামীকে তালাক দেন।



মামলার আসামি কাউলজানী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য ইসমাইল হোসেন ছরোয়ার বলেন, ‘রতন ও গৃহবধূকে তার শশুরবাড়ির লোকজন অনৈতিক কাজের সময় হাতেনাতে আটক করে। খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে ওই বাড়িতে যাই। পরেরদিন ওই গৃহবধূর শশুর ও বাবার বাড়ি এবং রতনের শশুর ও তার পরিবারের লোকজনের উপস্থিতিতে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করা হয়। সেখানে রতন এবং ওই গৃহবধূর পরিবারের লোকজনের সমন্বয়ে গঠিত জুরিবোর্ডে এমন সিদ্ধান্ত আসে। আমরা শুধু সেটা বাস্তবায়ন করেছি।’



বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, ‘এ ঘটনায় রতনের বাবা বাদি হয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।’

বাসাইলসংবাদ

error: Content is protected !!