টাঙ্গাইলে লাকী বিড়ি ফ্যাক্টরী’র শ্রমিকদের অনশন

(রাইসুল ইসলাম লিটন)টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিল ঘারিন্দা এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী লাকী বিড়ি ফ্যাক্টরীতে কাজের দাবীতে দুইশতাধিক শ্রমিক অনশন করছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে এ অনশন শুরু করে বিড়ি শ্রমিকরা।



জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলায় লাকী বিড়ি ফ্যাক্টরী ছাড়াও ছোট বড় মিলে ২০টি বিড়ি ফ্যাক্টরী রয়েছে। সরকার তামাকের মূসক আইনে প্রতি বিড়ির প্যাকেটে ৮.১০ টাকা মূল্যের মূল্য সংযোজন কর লাগানো বাধ্যতামূলক করেছে। ফলে টাঙ্গাইলের কতিপয় বিড়ি ফ্যাক্টরীর মালিকরা অল্পদিনে কোটিপতি বনে যাওয়ার লক্ষ্যে ওই মূসক কর ফাঁকি দিয়ে জাল ও পুরাতন ব্যান্ডরোল লাগিয়ে দেদারছে প্রতি প্যাকেট ৮-১০ টাকা মূল্যে বিক্রি করছে।



এতে করে সরকার কয়েক কোটি টাকা মূসক কর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসের বিভাগীয় কর্মকর্তা জোবায়দা খানম নিরলস প্রচেষ্টায় এবং স্বল্প জনবল নিয়েও একাধিকবার কয়েকটি বিড়ি ফ্যাক্টরীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন।

ওই অভিযানে কালিহাতীর বানিয়াফৈরে নিউ মিরাজ ও একই উপজেলার ভুক্তা গ্রামের মোহিনী ও মিষ্টি বিড়ি ফ্যাক্টরী থেকে অসংখ্য পুরাতন ও জাল ব্যান্ডরোল সহ ২ ব্যক্তিকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।



অপরদিকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী লাকী বিড়ি ফ্যাক্টরীর মালিক শাহজাহান সঠিক ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে ১৮ টাকা মূল্যে প্রতি প্যাকেট বিড়ি বাজারজাত করায় ওই সব অবৈধ বিড়ির মূল্যে ব্যপক তফাত থাকায় মার্কেটে টিকতে পারছে না। ফলে গত ১০ অক্টোবর লাকী বিড়ি ফ্যাক্টরীর মালিক ব্যবসায়িক লোকসান ঠেকাতে টাঙ্গাইলে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসের নিকট ফ্যাক্টরীটি সাময়িকভাবে বন্ধ করার জন্য একটি লিখিত আবেদন করেন।

ফলে প্রায় অর্ধশতাধিক বছরের পুরানো টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী লাকী বিড়ি ফ্যাক্টরী বন্ধ হওয়ায় প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছেন।



এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল লাকী বিড়ি ফ্যাক্টরীর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কাশেম, সাধারন সম্পাদক মোঃ আরজু ও মহিলা শ্রমিক কল্পনা রানী দাস জানান, ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকাতে প্রায় দুইশতাধিক শ্রমিক পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে তারা ফ্যাক্টরী মালিক ও স্থানীয় কাস্টমস কর্মকর্তাদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

লাকী বিড়ি ফ্যাক্টরীর মালিক শাহজাহান জানান, আমি নিয়ম অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করলে অধিকাংশ বিড়ির মালিকরা অনৈতিক ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করায় আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ফ্যাক্টরী সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি।



টাঙ্গাইল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসে বিভাগীয় কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, আমি টাঙ্গাইলে যোগদানের পর থেকেই অবৈধ বিড়ি ফ্যাক্টরী মালিকদের বিরুদ্ধে প্রায় প্রতিনিয়তই অভিযান পরিচালনা করছি। ফলে টাঙ্গাইলের ২১ টি বিড়ি ফ্যাক্টরীর নিকট থেকে পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশি মূসক আদায় করেছি।

error: Content is protected !!