স্বাস্থ্য বিধি মানছে না টাঙ্গাইলের সাধারণ মানুষ

টাঙ্গাইল জেলা শহরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিধি লঙ্ঘন করে চলছে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। সিভিল সার্জনের কার্যালয় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে নানা পরামর্শের মধ্যে সীমিত রেখেছে করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রম।



সরেজমিনে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে (১৯ অক্টোবর) সকালে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে চিকিৎসা রোগী ও তাদের স্বজনদের অধিকাংশই মাস্ক না পড়ে হাসপাতালে ঢুকে পড়ছে। গাদাগাদি লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটছে।
চিকিৎসকের দরজার সামনেও গাদাগাদি করে দাঁড়ানো রোগীদের দীর্ঘ লাইন। বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজনরা ভীর করে রয়েছেন। তারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোন প্রয়োজনই মনে করছেন না।
হাসপাতাল আঙিনায় অভ্যাগতদের হাত ধোয়া বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করার কোন ব্যবস্থা নেই। তবে জরুরি বিভাগের ভেতরে রশি টাঙিয়ে চিকিৎসক ও কর্মীরা রোগীদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।



হাসপাতালে গেটে দাঁড়িয়ে নুরু নামে এক সিকিউরিটি গার্ড সবাইকে মাস্ক পড়ে ভেতরে যেতে অনুরোধ করে যাচ্ছেন। কেউ কেউ মাস্ক পড়লেও অধিকাংশই মাস্ক থুতনির নিচে নামিয়ে রেখেছেন। হাসপাতালের অঙিনায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা, রিকশা সহ ছোট ছোট গণপরিবহণ রাখা হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সদর উদ্দিন জানান, স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ বক্স স্থাপন করা হয়েছে। মাঝে মাঝে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। তারপরও যথাযথভাবে স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছেনা। জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা নেই।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশে তাপমাত্রা মেপে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হয়। কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হয়। সেখানে ঢুকতে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক। আদালতে বিচারক, অ্যাডভোকেট, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাদি-আসামি ও তাদের স্বজনদের স্বাস্থ্য বিধি মানা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জামান জানান, মানুষের করোনা ভীতি অনেকটাই কেটে গেছে। আসন্ন শীত মৌসুমে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে এ আশঙ্কায় জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে নানা পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। তিনি জানান, এখন টাঙ্গাইলেই করোনা শনাক্ত করা হচ্ছে। অচিরেই জেনারেল হাসপাতালে ‘আইসিইউ’ চালু করা হবে। শীতকালে করোনার প্রকোপ মোকাবেলায় তাদের প্রস্তুতি রয়েছে।



টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র, প্যানেল মেয়র, প্রায় এক ডজন কাউন্সিলর এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকাংশ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়েছেন। সেজন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য বিধি বাস্তবায়নে তৎপর। প্রবেশে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক। তাপমাত্রা নির্ণয় ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করে ভেতরে ঢুকতে হয়। পৌরসভা মিলনায়তনে সভা-সমাবেশ এবং সব বিভাগে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হয়ে থাকে।

পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরণ জানান, তিনি সহ পৌরসভার অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। পৌরসভায় স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিতে সবাই সচেতন। তবে জনসাধারণের মধ্যে এখনও করোনা বিষয়ে সচেতনতা আসেনি। আগে পৌরসভার সামনে সহ শহরের বিভিন্ন স্থানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। হাত ধোয়াকে অনেকে ঝামেলা মনে করে, তাই হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।



টাঙ্গাইল শহরের ময়মনসিংহ সড়কে জেলা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে সোমবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী দুপুরের খাবার খেতে চলে গেছেন। একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী কয়েকজন ঠিকাদার ও বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। দক্ষিণ পাশেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের কার্যালয়। সেখানে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীরা কেউ কাজ করছেন, কেউ অলস সময় কাটাচ্ছেন। কর্মকর্তারা কেউ প্রকল্পের সাইটে গেছেন, কেউ নামাজ ও খাবার খেতে।

টাঙ্গাইল সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, তারা স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার চেষ্টা করছেন। তবে অভ্যাগতদের অধিকাংশই শুধুমাত্র মাস্ক পড়ে আসছেন। হাত ধোয়ার ব্যবস্থা তারা রেখেছেন, কিন্তু হাত ধোয়ায় অভ্যাগতদের আগ্রহ নেই। তারা মাঝে মাধ্যে অভ্যাগতদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখেন।



শহরের সিঅ্যান্ডবি রোডে মনোয়ারা ক্লিনিকে দেখা যায়, রোগী বা স্বজনরা ভেতরে ঢুকার সময় তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে, সবাইকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মাস্ক না পড়ে ভেতরে যেতে দেওয়া হচ্ছেনা। ময়মনসিংহ রোডের এশিয়া হসপিটাল, সরকার হসপিটাল, বাসটার্মিনালের সোনিয়া ক্লিনিক অ্যান্ড ডাগনস্টিক সেন্টার, পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতাল, মেইন রোডের আয়শা খানম মেমোরিয়াল হাসপাতাল সহ অধিকাংশ বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতেও একই অবস্থা।



শহরের রেজিস্ট্রিপাড়ায় অবস্থিত ব্যুরো বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ে প্রায়ই সভা-সমাবেশ ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্বাস্থ্য বিধি মেনে মাস্ক পড়ে, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করে বা হাত ধুয়ে তাপমাত্র মেপে ভেতরে যেতে হয়। ময়মনসিংহ সড়কের বেসরকারি সংস্থা সেবা টাওয়ারেও একই অবস্থা।

টাঙ্গাইলটাইমস/এমএকিউ

error: Content is protected !!