জাল নোটের চক্র আটক; ৬ বার জেলে গেলেও জাল টাকা ছাড়তে পারেনি হুমায়ূন

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে ৪৯ লাখ টাকার জাল নোটসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

রোববার দুপুরে দুপুরে নুরজাহান রোডের এক বাড়ির দোতালার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাকৃতরা হলেন- মো. হুমায়ুন কবির খান (৪৫), মো. জামাল (৪২), সুখী আক্তার (৩০) ও তাসলিমা আক্তার (৩০)। তাদের মধ্যে দলনেতা হুমায়ুন কবির আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ৬ বার গ্রেফতার হয়েছে। তবে জালনোটের ব্যবসা ছাড়তে পারেনি।



প্রতিবারই জামিনে বের হয়ে এসে শুরু করে এ কারবার। সে ২০০২ সাল থেকে জালনোটের ব্যবসা চালিয়ে আসছে। যতবারই গ্রেফতার করা করা হয়েছে ততবারই জামিনে বের হয়ে আরেকটু বড় পরিসরে চালিয়েছে জালনোটের ব্যবসা। সর্বশেষ দেড় বছর আগে জামিনে বের হয়ে এসে সে মোহাম্মদপুরের ওই বাসায় জালনোটের কারখানা খুলে বসে।
ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের ডিসি ওয়ালিদ হোসেন জানান, রোববার বিকালে মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের ৬ তলা বাড়ির দোতলার ওই বাসায় অভিযান চালায় ডিবির গুলশান বিভাগ।



অভিযানকারী দলের বরাত দিয়ে তিনি জানান, এসময় ৪ জনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি দু’টি আসুস ল্যাপটপ, চারটি ইপসন প্রিন্টার, কয়েকটি কাটার, অনেকগুলো স্ক্রিন, ডাইস, নিরাপত্তা সুতা, বিভিন্ন রঙের কালি, আঠা, বিপুল পরিমাণ জলছাপ যুক্ত বিশেষ কাগজসহ অন্যান্য সামগ্রী ও সফট ডাটা/কপি উদ্ধার করা হয়। যা দিয়ে আনুমানিক চার কোটি টাকার জাল নোট তৈরি করা সম্ভব। এছাড়া, বাসার বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখা কয়েক ৪৯ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দা পুলিশ জানতে পারে, গ্রেফতারদের মধ্যে জামাল পেশায় একজন রঙমিস্ত্রী। সে এক লাখ টাকার জাল নোট ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার কিনে নিয়ে খুচরা বাজারে ছাড়তো।

ডিবি সূত্র জানায়, সাভার, মানিকগঞ্জ, কাপাসিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে সে এই জাল নোট দিয়ে সাধারণ জিনিসপত্র কেনাকাটা করত। বিশেষ করে ছোট ছোট দোকানে এসব জাল টাকা সে ব্যবহার করত। গ্রেফতার দুই নারীকে হুমায়ূন কবির ১৫ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার টাকা বেতনে কারখানায় চাকরি দিয়েছিল। আটক তাসলিমা আখতারের স্বামী সাইফুল ইসলাম গত জানুয়ারি মাসে র‌্যাবের হাতে আটক হয়ে জেলে আছে।



হুমাযুন কবিরের আরেক ভাই কাওসারও জাল টাকার ব্যবসায়ী। বর্তমানে সে কারাগারে আছে। তাছাড়া হুমায়ুন কবিরের আরও তিন সহযোগী রয়েছে। তারা হলো আল আমীন, বাদল ও জাসিম। তারা মাঠ পর্যায়ে জাল টাকা ছড়ানোর কাজ করে। তাদের খুঁজছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ চক্র কোটি কোটি টাকার জাল নোট তৈরি করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয় তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে।

ডিবি পুলিশ জানায়, চক্রটি সারা বছর ধরে জাল টাকা তৈরি করলেও আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বেশ কয়েকদিন ধরে জোরেশোরে জাল টাকা তৈরি করে আসছিল।

error: Content is protected !!