শীতে কোভিড-১৯ থেকে বাঁচতে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই

আসছে শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরীক্ষার নানান স্তর পেরিয়ে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কবে নাগাদ আলোর মুখ দেখবে সেটা বলা যাচ্ছে না এখনই। অনিশ্চয়তার দোলাচলে বিশেষজ্ঞদের কথা একটাই—ভ্যাকসিনের আশায় বসে থাকা চলবে না। কোভিড-১৯ থেকে বাঁচতে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। তারা বলছেন, দেশের ১৭ কোটি মানুষকে একসঙ্গে টিকা দেওয়া অসম্ভব, কিন্তু ১৭ কোটি মানুষকে মাস্ক পরানো সম্ভব।



স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘জোর দিতে হবে নন-ফার্মাসিউটিক্যাল ইনটারভেশনের দিকে। এরমধ্যে রয়েছে মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা, বারবার হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধি। এগুলো জনগণকে মেনে চলার ব্যবস্থা করা না গেলে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় কোনোভাবেই।’

ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘আমার ধারণা ২০২২ সালের শেষ নাগাদ বাংলাদেশ বিনামূল্যে ভ্যাকসিন পেতে পারে বড়জোর দুই-তিন কোটি, কিনতে পারবে এক কোটি। অন্যদিকে তিন লেয়ার মাস্ক কোভিড ভাইরাস ঠেকাতে সক্ষম। আমরা সবাই মাস্ক পরলে ভ্যাকসিনের জন্য হা-হুতাশ না করলেও চলবে।’



স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, ‘কারও উপসর্গ থাকলে তাকেই শনাক্ত করে আমরা আইসোলেশনে নিচ্ছি। কিন্তু যার উপসর্গ নেই তাকে আক্রান্ত বলে ধরছি না। তাই কে আক্রান্ত আর কে আক্রান্ত নন, সেটা না ধরে প্রত্যেকের মাস্ক পরা উচিত এবং সঠিকভাবেই পরা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘এখনও শতভাগ কার্যকর ভ্যাকসিন কোথাও তৈরি হয়নি। কোথাও তৃতীয় ধাপে রয়েছে। সেগুলো ভ্যাকসিন হিসেবে আসতে আরও সময় লাগবে। তাই নিজেকে রক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মাস্ক ও সামাজিক দূরত্ব। গবেষণায় পাওয়া গেছে, যারা পজিটিভ হয়েছেন, তাদের শতকরা ৮০ ভাগেরই উপসর্গ নেই। কে আক্রান্ত আর কে সুস্থ সেটা খালি চোখে জানার উপায় নেই।’



নিজের জন্য না হলেও নিজের পরিবারের জন্য, আসুন- আসুন সবাই মাস্ক পরি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, তাহলেই এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে সফলতা আসবে আর আমরা ফিরে পাব কোভিডোত্তর সুন্দর পৃথিবী।

error: Content is protected !!