অফিসে ঝামেলা হয়েছে, সবাইকে দোয়া করতে বলিস! ছোট ভাইকে আকবর

সিলেটের বন্দরবাজার পু’লিশ ফাঁড়িতে যু’বককে নি’র্যাতন করে হ’ত্যার ঘ’টনায় অ’ভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবরের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজে’লার দূর্গাপুর ইউনিয়নের বগইর গ্রামে।

মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য রায়হান নামে এক যু’বককে নি’যার্তন করে হ’ত্যায় অ’ভিযুক্ত আকবরসহ চারজনকে সা’ময়িক ব’রখাস্ত করেছে পু’লিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।



বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে বগইর গ্রামে আকবরদের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় স্বজন ও প্রতিবেশীদের স’ঙ্গে। সিলেট মেট্রোপলিটন পু’লিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জ্যোতির্ময় স’রকার বলেছিলেন, এসআই আকবর হোসেনকে ১২ অক্টোবর বরখাস্ত করে পু’লিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার লাপাত্তা হয়ে যাওয়ার বি’ষয়টি জানা নেই।

এ সময় আকবরের ছোট ভাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া স’রকারি কলেজে শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘‘আমার ভাই এ ধরনের কাজ করতে পারে বলে বিশ্বাস করি না। রবিবার (১১ অক্টোবর) সর্বশেষ বড়ভাইয়ের স’ঙ্গে কথা হয়েছিল। তখন তিনি বলেন, বি’পদে আছি।



অফিসে ঝামেলা হয়েছে সবাইকে দোয়া করতে বলিস। এরপর থেকে আর যোগাযোগ নেই।’’উল্লেখ্য, ১৩ অক্টোবর সকাল থেকে এসআই আকবরের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে ঢাকা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট পু’লিশের একটি সূত্র।

আকবরের বাবার নাম জাফর আলী ভূঁইয়া। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার বড় আকবর। ২০০৫ সালে কনস্টেবল হিসেবে পু’লিশে যোগ দিয়ে ২০১৪ সালে পদোন্নতি পেয়ে এসআই হন তিনি। এদিকে, গ্রামে তাদের ‘আলিশান’ বাড়ি নিয়েও চলছে নানা আলোচনা।

তবে পরিবারের দাবি, ওই বাড়ি নির্মাণে আকবরের কোনো অবদান নেই। শিক্ষক বাবার অবসর ভাতা ও সিঙ্গাপুর প্রবাসী ভাইয়ের টাকায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাড়িটি নিমার্ণ করা হয়।আকবরের বি’রুদ্ধে ওঠা অ’ভিযোগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তার গ্রামের লোকজন।



হাবিবুল্লাহ নামে গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘এমনিতেই তো কাউকে সাসপেন্ড করার কথা না। নিশ্চয় পিছনে কোনো ঘ’টনা আছে। ত’দন্ত করলে সব বের হবে আশা করি। আকবরের যে ভাই সিঙ্গাপুর থাকে সে প্রায়ই দেশে চলে আসে। তার আয়-রোজগার খুব ভালো না বলে জানি।’’এটা আমাদের দাদার থেকে পাওয়া সম্পত্তি। আমাদের পাশের আরেকটা পৈত্রিক বাড়ি বিক্রি করে এখানে নতুন করে বাড়ি নির্মাণ করেছি।

এ বি’ষয়ে যোগাযোগ করা হলে আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রা’প্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাহামুদ বলেন, “আকবরের বাড়ি দূর্গাপুর ইউনিয়নের বগইর গ্রামে এটুকুই জানি।তার কিংবা তার পরিবার সম্প’র্কে আমার কাছে কোনো ত’থ্য নেই।



জে’লা পু’লিশ কিংবা পু’লিশ সদর দপ্তর থেকেও এ বি’ষয়ে জানার জন্যে কোনো নির্দেশনা আমাদের কাছে আসেনি।”আকবরের বন্ধু মো. পারভেজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, আকবরের পক্ষে এমন হ’ত্যাকাণ্ড ঘটানো সম্ভব বলে মনে করি না। আমরা চাই ঘ’টনার সুষ্ঠু ত’দন্ত করা হোক।



অ’ভিযুক্ত এই পু’লিশ সদস্যের ভাইয়ের দাবি, বাড়ি নির্মাণে বড় ভাই কোনো টাকা দেননি। বাবার অবসরভাতা ও সিঙ্গাপুরে থাকা আরেক ভাই মোবারক হোসেন ভূঁইয়ার টাকায় কয়েকধাপে এ বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।

error: Content is protected !!