টাঙ্গাইলে সৎ বাবার ধর্ষণের শিকার ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী

সৎ বাবা মাঝেমধ্যেই কুপ্রস্তাব দিত ছোট্ট মেয়েটিকে (১৩)। বিষয়টি তিনদিন সে তার মাকে জানিয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পরে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সৎ বাবার বিরুদ্ধে মেয়ের মা বাদি হয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিগর ইউনিয়নে। অভিযুক্তের নাম হবিবুর রহমান (৫৫)। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।



ধর্ষণের শিকার কিশোরী জানায়, স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সে। মাঝে মাঝেই তার সৎ বাবা তাকে কুপ্রস্তাব দিত। ওই প্রস্তাবের বিষয়ে মাকে জানালে বিষয়টি দেখবে বলে জানায়। কিন্তু মা হয়ে তিনি মেয়ের ইজ্জত রক্ষা করতে পারেননি।
কিশোরীর মা বলেন, মেয়ের বিষয়টি নিয়ে যখনই স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে চেষ্টা করেছি, তখনই আমার ওপর চলতো অমানবিক নির্যাতন। আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগাই। ওই লোকটা কোনো টাকা পয়সাও দেয় না।



কিশোরীর প্রতিবেশী এক নারী বলেন, ছোট বাচ্চারাও এখন ওই লোকটার কথা শুনে ভয় পাচ্ছে। এমন জঘন্য কাজের জন্য তার ফাঁসি হওয়া দরকার।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ওই নারীর দ্বিতীয় স্বামী হবিবুর। বিয়ের পর ঘরজামাই হিসেবেই থাকেন হবিবুর। সম্প্রতি বাড়িতে বন্যার পানি ওঠায় মেয়েকে নিয়ে স্বামীর সঙ্গে পাশের এলাকায় আধাপাকা টিনের ঘরে ভাড়া থাকেন। গত ৬ অক্টোবর রাতের খাবার শেষে তারা ঘুমাতে যান। মেয়ে খাটে ঘুমাতে যায় এবং তারা দু’জনে ঘরের মেঝেতে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১১টার দিকে খাটে গিয়ে মেয়েকে ভয় দেখিয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন হবিবুর। পরে মেয়ের কান্নার শব্দে ঘুম ভাঙলে স্বামী পালিয়ে যান।



স্থানীয় ইউপি সদস্য মো.শফিকুল ইসলাম ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, এলাকাবাসীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ওই মেয়ের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। পরে ওইদিন রাতেই আমি ৯৯৯ নম্বরে কল দেই এবং বিষয়টি নিয়ে ওখান থেকে থানায় যোগাযোগ করতে বলে। রাতেই ওর মাকে সঙ্গে নিয়ে থানায় যাই এবং মামলার কাজে সাহায্য করি।
ঘাটাইল থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত মো. ছাইফুল ইসলাম ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
(মাসুম মিয়া, ঘাটাইল ডট কম)/-

error: Content is protected !!