সখীপুরে দুই শিশুর মাথার চুল কেটে বিকৃতির ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতন ও মাথার চুল কেটে বিকৃত করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ভুক্তভোগী এক শিশুর বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।



গত রোববার উপজেলার বেতুয়া পশ্চিমপাড়া বিশ্বনবী (সা.) হাফেজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত মো. তৈয়ব আলী আকন্দ ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক (বড় হুজুর)। তাঁর বাড়ি শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়।



অভিযোগকারী অভিভাবক জানান, তাঁর ১০ বছর বয়সী ছেলে প্রায় দুই বছর ধরে হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। গত রোববার তাঁর ছেলে মাদ্রাসায় গেলে মাথা ন্যাড়া না করার অপরাধে ওই মাদ্রাসার প্রধান হুজুর ব্লেড দিয়ে ছেলের মাথার চুল বিকৃত করে দেন। একই সময় আরেক শিশুর (ছেলের বন্ধু) মাথার চুলও একই কায়দায় বিকৃত করেন। চুল কেটে দেওয়ার পর ওই হুজুর দুই শিশুকে শারীরিক নির্যাতন করেন।
ওই অভিভাবক বলেন, ‘আমার ছেলের মাথার এ অবস্থা দেখে সহপাঠীরা হাসাহাসি শুরু করে। ছেলে বিকেলে বাড়িতে ফিরে লজ্জায় কান্নাকাটি করে আর জীবনেও মাদ্রাসায় পড়বে না বলে জানায়।’



ভুক্তভোগী এক শিশু বলে, ‘মাথার চুল ছোট করে কাটলেও বড় হুজুর ন্যাড়া না করার অপরাধে একটি ব্লেড হাতে নিয়ে মাথার মাঝ বরাবর রেখা টেনে ন্যাড়া করে দেন। পরে দুই কান মলে একপর্যায়ে ঘাড়ের ওপর “কারাতে স্টাইলে” আঘাত করেন। হুজুর কখনো আমাদের বেত দিয়ে পেটান না। সব সময় ঘাড়ের মধ্যে “কারাতে স্টাইলে” মারধর করেন।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মুফতি মো. তৈয়ব আলী আকন্দ বলেন, ‘প্রতি মাসেই শিক্ষার্থীদের চুল ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। ওই দিন দুজনের ন্যাড়া করার মাঝপথে নামাজের সময় হওয়ায় আমি মসজিদে চলে যাই। নামাজের পর ন্যাড়া করার জন্য ওই দুই ছাত্রকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওরা বিকৃত মাথা নিয়েই বাড়িতে চলে যায়। পরে ওই গ্রামের কিছু দুষ্ট শ্রেণির লোকজন ওই দুই ছাত্রের মাথার বিকৃত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আমার সম্মানহানি করে। গ্রামের কিছু মানুষ আমার ওপর হামলার চেষ্টাও করে। আমাকে না পেয়ে দ্বিতীয় হুজুর আরিফুল ইসলামকে মারধর করেছেন তাঁরা।’

সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ এইচ এম লুৎফুল কবির বলেন, এক শিশুর বাবা সখীপুর থানায় এসে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে হামলার অভিযোগে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক (দ্বিতীয় হুজুর) আরিফুল ইসলাম আরেকটি পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন। দুটি অভিযোগই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। উভয় পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমাউল হুসনা বলেন, ‘এক অভিভাবক তাঁর শিশুকে নিয়ে আমার কার্যালয়ে এসেছিলেন। শিশুদের বিষয়টি সখীপুর থানার ওসিকে দেখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

error: Content is protected !!