পুলিশ বিভাগের সততার প্রতীক ওসি আসলাম হোসেন

সাদ্দাম হোসেন মুন্না নারায়ণগঞ্জঃনারায়নগঞ্জের শিল্পাঞ্চল ফতুল্লায় সম্প্রতি হত্যা, ডাকাতি, ধর্ষণসহ নানা ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত অপরাধীকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ফতুল্লায় অপরাধীদের কাছে ওসি আসলাম হোসেন এখন মূর্তিমান আতঙ্ক। তিনি একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা।



জানা যায়, ২০ আগস্ট মধ্যরাতে ফতুল্লার বিসিকের একটি গার্মেন্ট থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পাগলা গুদারাঘাটে এক গার্মেন্টকর্মী কিশোর গ্যাংয়ের হাতে গণধর্ষণের শিকার হয়।
ওই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে রবিন, আল-আমিন, হিমেল, মোস্তাক ও মাসুম নামে পাঁচ ধর্ষককে গ্রেফতার করে পুলিশ।



২৭ আগস্ট রাতে ফতুল্লার দাপাইদ্রাকপুর এলাকার নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তানের হাতে খুন হন জামাল নামে এক প্রবাসী। হত্যার এ ঘটনা আড়াল করতে দ্রুত লাশ দাফনের চেষ্টা করা হয়।
ওই দিনই ওসি আসলাম ওই বাড়িতে উপস্থিত হয়ে লাশের সুরতহাল দেখে নিহতের স্ত্রী শারমীন আক্তার (৪০), মেয়ে সামিয়া আক্তার (২০) ও ছেলে তানভীর হাসান ডালিমকে (১৮) আটক করেন। আটককৃতরা পরে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।



২ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের দেলপাড়া এলাকায় ডিম ব্যবসায়ী জামাই-শ্বশুর কিশোর গ্যাংয়ের কবলে পড়েন।
এ সময় কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসীরা জামাই বিল্লাল ও শ্বশুর রাজুকে কুপিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় ভ্যানভর্তি ডিম কুপিয়ে ভেঙে ফেলে সন্ত্রাসীরা।
এ ঘটনায় ওই দিনই সিয়াম ও রমজান আলী নামে দুই ডাকাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনই আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
২ সেপ্টেম্বর রাতে ফতুল্লার পাগলা তালতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫ জুয়াড়িকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ৬১ হাজার টাকা ও তাস জব্দ করে পুলিশ। ওই জুয়াড়ি স্পটটি প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল।
১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ফতুল্লার বক্তাবলী ফেরিঘাটে বেলাল নামে এক চালককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা শেষে তার মৃতদেহ নদীর তীরে ফেলে ইজিবাইক ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনায় ওই রাতেই পুলিশ তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, অপরাধ দমনে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় যে কোনো অপরাধ সংগঠিত হলে তা সহজেই দ্রুত দমন করতে পারি।
সততা আর নিষ্ঠার সঙ্গে থানার সব অফিসার ও সদস্যকে নিয়ে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করি। অপরাধী যেই হোক কিংবা রাজনৈতিক দলেরও যদি হয় কাউকে ছাড় দিই না। প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন এলাকায় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে অপরাধবিষয়ক সভা করি। সভায় মাদক, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, জঙ্গিবাদসহ কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এসব অপরাধীকে সভা থেকে হুশিয়ারি দিয়ে থাকি, এতেই অনেক অপরাধীই অপরাধ থেকে বিরত থাকে।



তিনি আরও বলেন, অন্য সময়ের চেয়ে বর্তমানে ফতুল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। অপরাধ দমনে এলাকাবাসীসহ সবার সহযোগিতা পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা কৌশল পাল্টাচ্ছে। আমরাও তাদের ধরতে কৌশলী হয়েছি। সম্প্রতি একাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে প্রাইভেটকারসহ গ্রেফতার করেছি। মাদক শূন্যের কোঠায় নেয়ার চেষ্টা করছি। এ ছাড়া প্রতিটি এলাকার সন্ত্রাসীদের তালিকা আপডেট করা হয়েছে। কোন এলাকায় কোন সন্ত্রাসী গ্রুপ কী করছে তারও খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

(দৈনিক একাত্তর জার্নাল)

error: Content is protected !!