নির্বাচনের হাওয়া লেগেছে টাঙ্গাইল পৌরসভায়

(তানজিনা বাহার)মেয়র নির্বাচনকে সামনে রেখে পৌরসভার সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যাপক তৎপরতা শুরু করছেন। মাঠ গোছাতে ভোটারদের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরছেন। সরকার দলীয় আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য প্রার্থীরা জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। বতর্মান মেয়রসহ সরকার দলীয় অর্ধডজন মেয়রপ্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন, প্যানেল মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুজ্জামান খান সোহেল, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হক আলমগীর, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সোলায়মান হাসান, সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের ছেলে আহমদ সুমন মজিদ মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।



নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য মেয়র ও পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর এবং মহিলা কাউন্সিলর পদে নতুন পুরনো মুখ মিলে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন প্রার্থীর সক্রিয় তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা প্রচারণা ও তৎপরতায় এগিয়ে রয়েছেন।
এদিকে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা এ নিয়ে রয়েছে অস্পষ্টতা। নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসব প্রার্থী অনেক আগে থেকেই ভোটারদের কাছে দোয়া চাইতে শুরু করে দিয়েছেন।
টাঙ্গাইল পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন বলেন, আমি তিনবার টাঙ্গাইল পৌরসভার জনগণের বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছি। দল আমাকে আবারো মনোনয়ন দিলে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবো এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত শহর গড়ে তুলবো।
টাঙ্গাইল পৌরসভার বর্তমান প্যানেল মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুজ্জামান খান সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ আমি টাঙ্গাইল পৌর এলাকার গণসংযোগ করে যাচ্ছি। এতে তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও জনগণের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে মেয়র নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার তিলোত্তমা টাঙ্গাইল শহর উপহার দেবো।
শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হক আলমগীর জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। সে কারণে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়াও তিনি কয়েক যুগ যাবৎ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। দলের জন্য আন্দোলন, সংগ্রাম, লড়াই ও জেল হাজত খেটেছেন। দায়িত্বশীল কর্মী বিবেচিত হলে তিনি দলের মনোনয়ন পাবেন।
টাঙ্গাইল শহর জাতীয় পার্টির সভাপতি আহসান খান আছু বলেন, ইতিমধ্যে দলের হাই কমান্ডের সবুজ সংকেত পেয়েছি। মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেলে জনগণের ভোটে আমি নির্বাচিত হবো। দলের হাই কমান্ডের সাথে কথা হচ্ছে জোটের ব্যাপারেও।
এছাড়াও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থী শহর জাতীয় পার্টির সভাপতি আহসানুল হক খান আছু গণসংযোগ শুরু করেছেন। তবে বিএনপি’র কোন প্রার্থীকে মাঠে দেখা যায়নি।
টাঙ্গাইল পৌরসভার বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে। নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
(বার্তা/টাঙ্গাইল/ডেস্ক)

error: Content is protected !!