টাঙ্গাইলে শামছুদ্দিনের দেশি-বিদেশী বিরল প্রজাতির কবুতরের খামার

টাঙ্গাইলে মধুপুর উপজেলার কাজী শামছুদ্দিন। বয়স ৩৮ বছর। বাবা মৃত আব্দুল করিম। তিনি বিরল জাতের কবুতরের খামার করে সাড়া ফেলেছেন দেশে।
কাজী শামছুদ্দিনের খামার দেখতে দেশের নানা জেলার লোকজন ভীড় করেন। গরুর খামার, হাঁসের খামার, দেশি কবুতরের খামার করেছেন এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে দেশ জুড়ে। তবে দেশি বিদেশী বিরল জাতের কবুতরের খামার গড়েছেন এমন লোকের সংখ্যা কম। অসাধ্যকে সাধ্য করে শখের বশে খামার করে শামছুদ্দিন এখন স্বাবলম্বী।

ফেসবুক ও অনলাইনের মাধ্যমে কবুতর ক্রয় বিক্রয় করে থাকেন তিনি। তার খামারের প্রতিটি কবুতরের দাম ৫ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।



খামারটি তার টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভার মালাউড়ি গ্রামে।

মালাউড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিমে পাকা ঘরে শুরু করেছেন তিনি কবুতরের খামার। বিশাল ঘরের মধ্যে খামার করেছেন। সহজে বৃষ্টির পানি উঠে না। সুন্দরভাবে সাজিয়েছেন খামার। সারিবদ্ধভাবে বক্সগুলো রেখেছেন ঘরের মধ্যে। ডিম থেকে বাচ্চা ফুটান।

২০১৪ সালের কথা। কাজী শামছুদ্দিন তার চাচা আমজাদ আলীর হাতে কবুতর দেখে তার সাধ জাগে কবুতর পালনের। প্রথমে মধুপুর হাট থেকে ১ জোড়া গিরিবাজ কবুতর ৩০০ টাকা দিয়ে ক্রয় করেন। বাড়িতে বক্স বানিয়ে শুরু করেন কবুতর পালন। এভাবে হাট বাজারে ঘুরতে ঘুরতে দেখেশুনে কবুতর কিনে এনে বাড়িতে পালন করেন।
ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ আশ পাশের জেলা থেকে প্রতিজোড়া কবুতর ৫ হাজার, ১০ হাজার টাকা দামেও ক্রয় করেছেন বলে তিনি জানান। এভাবে শখ থেকে গড়ে তোলেছেন বিরল জাতের কবুতরের খামার। তার খামারে এখন ১১০টি কবুতরের বক্স রয়েছে। একসাথে ১১০ জোড়া কবুতর পালন করতে পারেন।



শামছুদ্দিনের খামারে বর্তমানে ৩০ জাতের বিদেশী দুর্লভ জাতের কবতুর রয়েছে। এর মধ্যে আমেরিকান ইংলিশ টামোপিটার, লাহুর সিরাজী, হাউজ পিজন, সুন্ডিয়ান, কিং পিটার, আর্জএনজেল, আমোরিকানজেইড, মোড়হেন্ড, এস পেনিস করলা, শ্যালো, ডেনিস স্টামলার, বুখারা, মং, মরেশ পিটার, এলমন পিটার, মেঘ পাই, মডেনা, রাশিয়ান টামলার, পরমনা, আমেরিকান, নানা আমেরিকান, হোমা, গিরিবাজ, বিদেশী গিরিবাজ আরও অনেক জাত।
এসব কবুতরকে নানা জাতের খাদ্য দিতে হয়। পালন করা হয় সৌখিনভাবে। কবুতরের যত্নের জন্য সে নিজে ও তার একজন শ্রমিক রয়েছে। প্রতিদিন দিতে হয় খাদ্য। খাদ্যের মধ্যে গম, ভূট্টা, মশুর ডাল, খেসারি ডাল, পাকনা, বাজরা, সরিষা, ঘাসের বীজ, সূর্যমুখী ফুলের বীজ, কুসুম ফুলের বীজ, রেজা, কালো মটর, সবুজ মটর ভাবরী।

কবুতরের খামারে মধ্যে বক্সের সামনে খাদ্যের বক্স দেওয়া আছে। এখানে পানি ও খাদ্য দিয়ে দেন শামছুদ্দিন।
তিনি ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, বাজারে নিয়ে এই কবুতর বিক্রি করতে হয় না। বাড়ী থেকে কিনে নেয় সৌখিন মানুষরা। অনলাইন ও ফেসবুকের মাধ্যমে ও বিক্রি করা হয়। দেশের বাহিরেও এ কবুতর বিক্রি করা হয়।

তার খামারে এখন ১৫-২০ লক্ষ টাকা পুঁজি রয়েছে। তার প্রতিমাসে আয় ৫০-৬০ হাজার টাকা। প্রতিমাসে ব্যয় ২০-৩০ হাজার টাকা বলে কাজী শামছুদ্দিন জানান।
(উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল ডট কম)/-

error: Content is protected !!