দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজ মজুদ আছে—বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজ মজুদ আছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ভারত রপ্তানি বন্ধ করায় কিছু ব্যবসায়ী দাম বাড়াচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে, তাই ভোক্তাদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বুধবার সচিবালয়ে পেঁয়াজের মজুদ, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিকে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি দাবি করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন,দেশে আগামী মৌসুম পর্যন্ত ১০ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। তার মধ্যে মজুদ আছে প্রায় ছয় লাখ টন পেঁয়াজ। ফলে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ক্রেতারা চাহিদার বেশি পেঁয়াজ কেনায় এর বিরূপ প্রভাবও পড়েছে বাজারে। পেঁয়াজ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। প্রয়োজনের অতিরিক্ত পেঁয়াজ না কেনারও অনুরোধ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

দেশে এখনো ৩ মাসের মজুত আছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভারত ছাড়া অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়াও চলছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে বিপুল পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে।

দেশে বছরে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ২৩ লাখ টনের বেশি। চাহিদা ২৪ থেকে ২৫ লাখ টনের। তারপরও প্রতিকূল আবহাওয়াসহ নানা কারণে নষ্ট হওয়ায় বছরে আট থেকে দশ লাখ টন আমদানি করতে হয় বিদেশ থেকে। আর এর প্রায় পুরোটাই আসে ভারত থেকে। তাই মহারাষ্ট্রের নাসিক আর ব্যাঙ্গালোরে পেঁয়াজের সংকট হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের বাজারে। হু হু করে বাড়তে থাকে দাম। গত বছর এ সময়েই ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজির পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে আড়াইশো থেকে ৩০০ টাকায়।

এবছরও প্রায় একই ঘটনার মুখে বাংলাদেশ। ভারত রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পরপরই একশ টাকার পথে পেঁয়াজের দাম।

এদিকে পেঁয়াজের মৌসুম আসতে এখনও বাকি প্রায় ছয় মাস। তাই দ্রুততার সঙ্গে আমদানির বিকল্প বাজার খুঁজে বের করার তাগিদ দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা। দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ সঠিক উপায়ে সংরক্ষণে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি কৃষকদের প্রশিক্ষণের পরামর্শও দেন বিশ্লেষকরা।

(ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন)

error: Content is protected !!