খালেদার মুক্তির মেয়াদ বাড়লো ৬ মাস

নিজ বাড়িতে অবস্থান করে চিকিৎসা গ্রহণ এবং বিদেশ না যাওয়ার শর্তে দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়িয়েছে সরকার। তার পরিবারের আবেদনে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দেয়ার পরপরই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফলে আগামী বছরের ২৫ মার্চ পর্যন্ত মুক্ত থাকবেন খালেদা জিয়া।

দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের দণ্ড নিয়ে কারাগারে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নির্বাহী আদেশে গত ২৫ মার্চ খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হয়। যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৪ সেপ্টেম্বর।

এমন পরিস্থিতিতে সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়াতে গত মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে তার পরিবার। চিকিৎসার কারণ দেখিয়ে এই আবেদন করেন খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার। আবেদনে উন্নত চিকিৎসার জন্য কোনো শর্ত আরোপ না করারও অনুরোধ জানানো হয়। তবে, সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়িয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে দুটি শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে।

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন জানান, মানবিক দিক বিবেচনা করে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শর্ত মেনে বাসায় থেকেই খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা নিতে হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বর্তমানে গুলশানে তার ভাড়া বাসা ‘ফিরোজায়’ রয়েছেন। তিনি আর্থারাইটিসের ব্যথা, ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজায় কারাজীবন শুরু করেন খালেদা জিয়া। পরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও তার সাজার রায় হয়। তার বিরুদ্ধে আরও ৩৪টি মামলা রয়েছে।

error: Content is protected !!