আওয়ামী লীগ প্রশাসননির্ভর কোনো দল নয়– ভিপি জোয়াহের এমপি

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগে কোনো অনুপ্রবেশকারী নেই মন্তব্য করে সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম এমপি বলেছেন, অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে বেশি শক্তিশালী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে বিশ্ব মানবতার মা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত, জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।

জেলায় পরিবারভুক্ত রাজনীতি সম্পর্কিত এক প্রশ্নে ভিপি জোয়াহের খ্যাত এই রাজনীতিবিদ বলেন, সময় পরিবর্তনশীল- সময়ের সাথে সাথে সবকিছুই পরিবর্তন হতে বাধ্য। রাজনীতিও এর বাইরে নয়। এক সময় মুসলিম লীগ ব্যাপক শক্তিশালী রাজনৈতিক দল ছিল, এখন তাদের অস্তিত্ব নেই। আওয়ামী লীগ মূলত গণমানুষের দল। গণমানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় দলের কর্মপন্থা নির্ধারিত হয়।

সরকার পরিচালনায় আওয়ামী লীগ জনপ্রিয়তার শীর্ষে মন্তব্য করে বারবার কারাবরণকারী জোয়াহেরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের চাহিদা আছে, আছে ক্ষোভ; কিন্তু কোনো অভিযোগ নেই। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। দলীয় কর্মসূচি পালন ও বাস্তবায়নে দলের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলো স্বতঃস্ফূর্র্তভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে।

রাজনীতিতে প্রশাসনের প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, গণমানুষের অধিকার সমুন্নত রাখতে আওয়ামী লীগ কখনো কারো উপর নির্ভরশীল হয়নি। বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনা করছে। এজন্য প্রশাসনের সাথে দলীয় নেতাকর্মীদের সখ্য আছে।

আওয়ামী লীগ প্রশাসননির্ভর কোনো দল নয়, নিজস্ব স্বকীয়তায় গণমানুষের কল্যাণে কাজ করা দল। রাজনীতিতে প্রশাসনের প্রভাব থাকাটা অস্বাভাবিক নয়, নেতৃত্বের বলিষ্ঠতা দিয়ে আওয়ামী লীগ সে প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পেরেছে।

সংগঠন সম্পর্কিত এক প্রশ্নে তিনি বলেন, জেলায় ১৩টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কমিটি রয়েছে। সেগুলো পুনর্গঠনের কাজ চলছে। জেলা কমিটির মেয়াদও শেষ হয়েছে। আগামী অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে জেলা কমিটির সম্মেলন করার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে দাবি করে জোয়াহেরুল ইসলাম এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সব সমস্যা মোকাবেলা করে বাঙালি জাতি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। বন্যা-খরাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে বৈশ্বিক সমস্যা করোনাভাইরাস মোকাবেলায়ও সরকার সফলতা দেখিয়েছে। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সুতিকাগার টাঙ্গাইল।

বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জেলা আওয়ামী লীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, ভবিষ্যতেও রাখবে।

২০১৫ সালের ১৮ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়া অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের) এমপি। ১৯৭০ সালে মিরিকপুর হাইস্কুল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। ১৯৭১ সালে কাদেরিয়া বাহিনীর হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭৩ সালে তিনি টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হন। লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭৯ সালে সহ-সভাপতি ও ১৯৮১ সালে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন জোয়াহেরুল ইসলাম। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি বারবার কারাবরণ করেন। ১৯৮৭ সালের ২৯ জুলাই করটিয়া সা’দত কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের ব্যানারে ভিপি নির্বাচিত হন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সালে গ্রেপ্তার হয়ে জেল-হাজতে থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করে ১৯৮৯ সালের ১০ জানুয়ারি দ্বিতীয়বার সা’দত কলেজের ভিপি নির্বাচিত হন।

১৯৯৪ সালে তিনি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও ২০০৪ সালে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসন থেকে ভিপি জোয়াহের এমপি নির্বাচিত হন।

(দৈনিক যায় যায় দিন)

error: Content is protected !!