অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েদের হাতে স্মার্টফোন আপনার বাচ্চাকে কি শিক্ষা দিচ্ছে!

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) এক গবেষণার পর জানিয়েছে ভিডিও গেমে আসক্তি এক ধরণের মানসিক রোগ।

ভারতের গুজরাট হাই কোর্ট নির্দেশ দেয় জনসম্মুখে পাবজি গেম খেলা নিষিদ্ধ। নেপাল, ইরাক ও জর্ডানেও নিষিদ্ধ । ইতিপূর্বে ক্ল্যাশ অফ ক্ল্যান, মনস্টার হান্টার ওয়ার্ল্ড, ডটা টু, ভাইস সিটি এবং হাঙ্গারগেমসহ অসংখ্য গেমে আসক্তি বাড়ছে। ‘কল্পনার জগতে গিয়ে গেমের প্রিয় নায়কের সাক্ষাতলাভের জন্য ২৪তলার ছাদ থেকে কিশোরের লাফিয়ে আত্মহত্যা, অতিরিক্ত গেম খেলায় বাবার বকুনি খেয়ে অভিমানী তাইওয়ানী কিশোরের নিজেকে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া, একটানা ২২ ঘণ্টার লাইভ ভিডিও গেম খেলে যুবকের মৃত্যু, গেমের জন্য টাকা জোগাড় করতে ১৩ বছরের ভিয়েতনামী কিশোরের ৮১ বছরের বৃদ্ধাকে হত্যা করে মানিব্যাগ চুরি, চায়না দম্পতির কম্পিউটার গেমের অর্থের জন্য নিজেদের তিন সন্তানকে ৯হাজার ডলারে বেচে দেয়া’ গেমাসক্তির ঘটনা ঘটেছে। ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ঘটিত এ আসক্তিকে মনোবিজ্ঞানীরা ‘ডিজিটাল মাদক’ বলেন। ২০১৮ সালের জুনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিফিকেশন অব ডিজিজ ১১তম সংশোধিত সংস্করণে (আইসিডি-১১), ‘গেমিং অ্যাডিকশন’ হিসেবে একে মনোস্বাস্থ্য সমস্যা বলেছেন।

২০১৩ সালে আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন প্রকাশিত মানসিক রোগ নির্ণয় বিষয়ক গাইডলাইনে (ডিএসএম-৫) বিষয়টিকে ‘ইন্টারনেট গেমিং ডিজঅর্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসির তথ্যমতে, এপ্রিল ২০১৯এ বাংলাদেশে প্রায় ৯ কোটি ৩৭ লাখ ইন্টারনেটের গ্রাহকের মধ্যে ৮ কোটি ৭৯ লাখ ব্যবহারকারী মুঠোফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে যুক্ত হয়। ব্যবহারকারীদের ৩৫ শতাংশ হচ্ছে মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫০০ জনের মস্তিস্ক স্ক্যান করে দেখেছেন, যেসব শিশু দিনে সাত ঘণ্টারও বেশি স্মার্টফোনে গেমস খেলে, তাদের মস্তিষ্কের শ্বেত পদার্থের বহিরাবরণ পাতলা হয়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, মোবাইল ফোন পকেটে রাখলে ভ্রুণের কোয়ালিটি কমে যাওয়া, বুক পকেটে রাখলে হার্টের সমস্যাসহ কম বয়সে চশমা পড়াও ডিজিটাল মাদকাসক্তির কারন। দক্ষিণ কোরিয়ার রেডিওলজি’র অধ্যাপক ইয়ুং সুক কিশোর কিশোরীদের মস্তিষ্ক পরীক্ষা করে প্রমাণ করেছেন যারা ইন্টারনেটে বেশি সময় দেন তাদের মস্তিস্কে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে ও ডিপ্রেশনে ভোগে।

ভার্চুয়াল স্টেজে দাঁড়িয়ে আমি ইন্টারনেটের বিরোধিতা করছি না। শুধু অভিভাবকদের সচেতনাতার অনুরোধ করছি। আজকের শিশুরা যেন আগামী দিনে ডিজিটাল মাদকাসক্ত না হয়। ব্যক্তিগত নয়, অভিভাবকদের মোবাইল সেট শিশুদের ব্যবহারের জন্য দিলে অনেকটা সংশয় কেটে যাবে। তারপরও অনুপযুক্ত ওয়েবসাইট ভিজিট করছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে। গেম খেলার আকুতি, তীব্র আকাঙ্খা, নতুন কিছুর চেয়েও ইন্টারনেটকে বেশি গুরুত্ব দেওয়াটাই আসক্ত মনে করতে হবে। পার্থক্য হচ্ছে এটি আচরণগত আসক্তি, আর অন্যান্যগুলো রাসায়নিক আসক্তি। শিক্ষার্থীরা যেন স্মার্টফোন হাতে পেয়ে ডিজিটাল মাদকাসক্ত না হয় সেদিকে সচেতনতা বাড়ানো অভিভাবকদের জন্য জরুরী।

লেখাঃ মোঃ সোহেল রজত।

error: Content is protected !!