দুর্নীতির অভিযোগে ঘাটাইলে ইউপি চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবী সদস্যদের

বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ৬ নং দিঘলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের অপসারণ দাবী করেছেন পরিষদের নয়জন সদস্য।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্য (পদত্যাগ, অপসারণ ও পদশূন্য) বিধিমালা ১৯৮৪ এর ১২ (২) ধারা মতে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসক এর কাছে লিখিতভাবে তারা এ অপসারণ দাবী করেন।

লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতা গ্রহণের পর নজরুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন। ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের এলজিএসপি প্রকল্পের কাজ চেয়ারম্যান ৪০ দিনের শ্রমিক দিয়ে করান এবং সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করেন। সরকারি বিজিএফ এবং বন্যাদূর্গতের জন্য আসা চাল কোনো সদস্যদের সাথে সমন্বয় না করে চেয়ারম্যান আত্মসাৎ করেন। সরকারি সকল উন্নয়ন প্রকল্পে অগ্রিম শতকরা ৩০ টাকা না দিলে তিনি কাজের অনুমোদন দেননা।

লিখিত অভিযোগে দিঘলকান্দি ইউনিয়নের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, পরিষদে উন্নয়নমূলক সভায় সদস্যদের হাজিরা সাক্ষরের প্রেক্ষিতে নিজের ইচ্ছামতো রেজুলেশন করেন। তার এ ধরনের কাজের প্রতিবাদ করলে শারীরিকভাবে লাঞ্চিতসহ পুলিশী নির্যাতনের ভয় দেখান। বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধীসহ যেকোনো ধরণের ভাতায় পরিষদের সদস্যদের কোনো মতামত বা শুপারিশ না নিয়ে তার ইচ্ছামত নিজস্ব লোকদের প্রদান করেন।

আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগেও চেয়ারম্যানের অনৈতিক কাজের বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাতে মৌখিকভাবে জানালেও তিনি কোনো প্রকার সংশোধন হননি। এমতাবস্থায় চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবী করেছেন ইউপি সদস্যরা।

অনাস্থা প্রদানের বিষয়ে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে সদস্যরা লিখিত দিয়েছে আমি তা শুনেছি, কিন্তু সরকারিভাবে কোনো নোটিশ এখনো পাইনি।
ইউএনও অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত। জেলা প্রশাসক মহোদয় যা নির্দেশনা দিবেন সে মোতাবেক কাজ করা হবে।
জেলা প্রশাসক মো.আতাউল গনি ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, বলেন, লিখিত পেয়েছি, বিধি মোতাবেক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
(মাসুম মিয়া, ঘাটাইল ডটকম)

error: Content is protected !!