সখীপুরে শিক্ষার কারিগর বিএ হালিম মাস্টারের মৃত্যু বার্ষিকী আজ

সখীপুরে সর্ব প্রথম স্মাতক ডিগ্রি অর্জনকারী, ও সখীপুরে শিক্ষার কারিগর বিএ হালিম মাস্টারের মৃত্যু বার্ষিকী আজ। সখীপুরে থানা গঠনের অন্যতম সংগঠক ও অবিভক্ত গজারিয়া ইউনিয়নের সাবেক রিলিফ চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।

বিএ হালিম সাহেবের পিতার নাম মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া এবং মাতার নাম মোসাম্মৎ বাছাতন নেছা। ধর্মভীরু পিতা ছেলেকে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করার উদ্দেশ্যে ভর্তি করেন শিক্ষা জীবনে তিনি ভালুকা থানার কাচিনা জুনিয়র মাদ্রাসায়। জুনিয়র ফাইনাল পরীক্ষায় মেধা বৃত্তি সহ উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হন কাউলজানী নওশেরীয়া হাই মাদ্রাসায়। উক্ত মাদ্রাসা থেকে ১৯৫০ সনে তিনি এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে করটিয়া সা’দত কলেজ থেকে ১৯৫৩ সনে আই এ ও ১৯৫৫ খ্রীস্টাব্দে বি,এ ডিগ্রী অর্জন করেন। পঞ্চাশের দশকে সমগ্র পাহাড়ী এলাকায় একমাত্র তিনিই সর্বপ্রথম বিএ পাস করেন।

শিক্ষকতা জীবনে সর্বপ্রথম গাজীপুরস্থ শৈলট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। শুরু হয় তাঁর কাঙ্খিত শিক্ষকতা জীবন। ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ বছর তিনি তৎকালীন ময়মনসিংহ ও ঢাকা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় ১৭ টি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন, তার মধ্যে ১২ টি হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যেসব স্কুলে তিনি দায়িত্ব পালন করেন, সেগুলোর মধ্যে শৈলট হাই স্কুল, নিজ মাওনা হাইস্কুল, কচুয়া পাবলিক হাইস্কুল, গাজীপুর হাইস্কুল, বাটাজোড় বিএম হাইস্কুল, কালমেঘা ইলিমজান হাইস্কুল সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।

নব্য প্রতিষ্ঠিত জুনিয়র বা হাইস্কুল সরকারী মঞ্জুরী লাভের পূর্ব শর্ত ছিল গ্রাজুয়েট হেডমাস্টার । কিন্তু তখনকার দিনে গ্রাজুয়েট হেডমাস্টার পাওয়া খুব দুস্কর ছিল। তাই তিনি ১২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতঃ মঞ্জুরী পেতে সহায়তা করেছেন।

সখীপুরবাসীর আহবানে বিএ হালিম সাহেব ১৯৬৫ সালের ১লা অক্টোবর ‘সখীপুর পিএম পাইলট হাইস্কুলে যোগদান করেন। প্রায় একযুগ তিনি অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বি,এ হালিম মাস্টার ১৯৩৬ সালের ২০ শে আগস্ট মুচারিয়া পাথার গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া এবং মাতার নাম মোসাম্মৎ বাছাতন নেছা।

১৯৫৮ সনে বাসাইল থানার কাউলজানী ইউনিয়নস্থ বাদিয়াজান গ্রামের ধনাঢ্য ব্যক্তি নজ্জেশ আলী তালুকদারের মেয়ে মোসাম্মৎ মরিয়ম বেগমের সহিত তিনি পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবনে তিনি অত্যন্ত সুখী ও সমৃদ্ধশালী ছিলেন।

তাঁর তিন ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে বড়ো ছেলে গোলাম মোস্তফা ইংরেজী বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করতঃ দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী। মেঝো ছেলে গোলাম মওলা অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে বর্তমান গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত মেম্বার হিসেবে জনসেবায় নিয়োজিত আছেন। ছোট ছেলে গোলাম মাহমুদ বাংলায় অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা পেশায় কর্মরত আছেন। বড়ো মেয়ে মোসাম্মৎ হেলেনা আক্তার সখীপুরের সর্বজন পরিচিত বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জনাব শেখ মোহাম্মদ হাবীবের সুযোগ্যা সহধর্মিণী, মেঝো মেয়ে মোসাম্মৎ হেনা আক্তারের বিয়ে হয়েছে ডাকাতিয়া নিবাসী জনাব আকবর হোসেনের নিকট।

তিনি একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। সেঝো মেয়ে মোসাম্মৎ মাফিয়া আক্তারের স্বামী মো. ছানোয়ার হোসেন গাজীপুরের পূবাইল আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক। সর্বকনিষ্ঠ মেয়ে মোসাম্মৎ রাবেয়া আক্তারের স্বামী মোঃ মুসা খান বর্তমানে ইতালী প্রবাসী।

দৃষ্টান্তের অধিকারী এই গুনী মানুষ ১৯৭৬ সালের ২ আগস্ট ৭৬ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন।

error: Content is protected !!