মধুপুরে রূপা হত্যার বিচার চাইলেন দুই ভাই

টাঙ্গাইলের মধুপুরে সিরাজগঞ্জ তাড়াশের মেয়ে জাকিয়া সুলতানা রুপাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার দাবিতে প্রতীকী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন তার দুই ভাই।
রুপার তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে রুপার দুই ভাই হাফিজুর প্রামানিক ও রুম্মান প্রামানিক উজ্জল তাড়াশ উপজেলা পরিষদের শহীদ মিনার চত্বরে দাঁড়িয়ে ওই প্রতীকী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
এসময় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অঝরে কাদঁতে থাকেন দুই ভাই।
বড় ভাই হাফিজুর রহমান বলেন, গত তিন বছরে বোনের হত্যার বিচার না পেয়ে আমার পরিবার ও সচেতন দেশবাসী হতাশ। আমার পরিবারের সম্ভবনাময় মেধাবী তরুণীর অকাল মৃত্যু হয়েছে। আমার একমাত্র কর্মক্ষম বোন রুপাকে হত্যা করায় আমরা অর্থনৈতিক দৈনতায় দিন পার করছি।
আমরা বারবার হত্যা মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দাবি জানালেও তা আজও পূরণ হয়নি। গত আড়াই বছর যাবত হাইকোর্টে আপিল শুনানি ঝুলে আছে।

রুপার ছোট ভাই রুম্মান প্রামানিক বলেন, চাঞ্চল্যকর এই হত্যার বিচারের মাধ্যমে দেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন হওয়া জরুরি। যাতে দেশের আর কোন মা বোনকে যেন আমার বোনের মত নরপশুদের খপ্পরে পড়ে সম্ভ্রম ও জীবন হারাতে না হয়। বোন হারানোর বেদনা যে কত যন্ত্রনাময় সেটা আমরাই বুঝি।
এসব কথা বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন রুম্মান।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা শেষে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আসানবাড়ী গ্রামের মৃত. জেলহক প্রাং এর মেয়ে রুপাকে চলন্তবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ শেষে নির্মমভাবে হত্যা করে পরিবহণ শ্রমিকরা।
পরে টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে রুপার মরদেহ ফেলে রেখে যায়।
এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে মধুপুর থানা পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাত পরিচয় নারী হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে রুপার মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় গণধর্ষণ ও হত্যামামলা দায়ের করে।
পরের দিন পত্রিকায় প্রকাশিত খবর দেখে ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে ছবি দেখে ছোট বোন রুপার লাশ শনাক্ত করেন।
২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহণের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) গ্রেফতার করে পুলিশ।
তারা প্রত্যেকেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এরপর নিম্ন আদালতে ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ৪ আসামীর মৃত্যুদণ্ড ও ১ জনের ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হওয়ার পর তারা জেলে রয়েছেন।
তাছাড়া ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সব আসামি খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন। এরপর গত ৩৬ মাসেও চাঞ্চল্যকর রুপা গণধর্ষণ ও হত্যামামলার আপিল শুনানি শুরুই হয়নি।
(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

error: Content is protected !!