ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যু! হাসপাতাল বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

ভুল চিকিৎসার অভিযোগে কুমিল্লার বরুড়া ফেয়ার হাসপাতাল বন্ধ ও অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) বরুড়া বাজারে ভুক্তভোগী এক রোগীর সহপাঠীরা এই মানববন্ধন করেন। পরে তারা বরুড়া বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী নাফসি জাহান পেটের ব্যথা ও বমির সমস্যা নিয়ে কুমিল্লার ফেয়ার হাসপাতালের ডাঃ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের কাছে চিকিৎসা নিতে যান। এসময় তিনি নাফসি জাহানকে পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই তার পেটে এপেন্ডিসাইটিস হয়েছে বলে ডাঃ রাশেদ উজ জামান রাজিবকে দিয়ে অপারেশন করান।

পরে ডাঃ ইকবাল ও ডাঃ রাজিব অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে তানজিদ সফি অন্তরকে বলেন আপনার বোনের এ্যাপেন্ড্রিসাইটিজ হয়নি। তার পেটে ৫/৫ সাইজের ওভারিয়ন চিস্ট হয়েছে। ভয়ের কিছু নাই, এটা সব মেয়েদেরই হয়ে থাকে। এটা কেটে ফেলা হয়েছে। পরে নাফসি ২১ এপ্রিল আবারো অপারেশনের স্থানে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে ডাঃ ইকবালের কাছে আসেন। তিনি নাফসিকে দেখে সেলাইয়ের স্থানে পুঁজ হয়েছে বলে ড্রেসিং করতে বলেন।

২৬ এপ্রিল ও ৫ জুন আবারও নাফসি সেলাইয়ের স্থানে ব্যথা নিয়ে ডাঃ ইকবালের কাছে আসেন। ডাঃ ইকবাল তাকে নিয়মিত ড্রেসিং করে এন্টিবায়োটিক ও ব্যথার ওষুধ চালিয়ে যেতে বলেন। পরবর্তীতে নাফসির পেটের ব্যথার সাথে জ্বর বাড়তে থাকে। ১৪ জুন আবারো ওই ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি নাফসিকে আল্ট্টাসনোগ্রাফি ও প্রস্রাবের পরীক্ষার রিপোর্টে তার ইনফেকশন হয়েছে বলে হাই এন্টিবায়োটিক ওষুধ খেতে বলেন।

২৪ জুন নাফসির পিরিয়ড এর সাথে অপারেশনের স্থানে প্রচণ্ড ব্যথা আরম্ভ হলে আবারো ফেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে আবারও নাফসির পেটে ব্যথা বেশি দেখা দেয়ায় ৭ জুলাই নিজ উদ্যোগে কুমিল্লা শহরের শেফা ডায়াগনস্টিক ও মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। এতে দেখা যায়, নাফসির পেটে তার অপারেশনের স্থানে নরম তুলতুলে কিছু একটা আছে।

এ ঘটনায় গত ৯ আগস্ট ভুক্তভোগী নাফসির ভাই তানজিদ শফি অন্তর ফেয়ার হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা: মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন ও সার্জন ডাঃ মোঃ রাশেদ উজ জামান (রাজিব) এর বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে মামলা করেন। এর পরে সেই মামলা প্রত্যাহার করতে ডাক্তার ইকবাল ও ফেয়ার হাসপাতালের লোকজন বিভিন্নভাবে তাদের চাপ ও হুমকি ধমকি দেয়। এর প্রতিবাদে নাফসির সহপাঠীরা এ মানববন্ধন করেন।

উল্লেখ্য, বরুড়া ফেয়ার হসপিটাল ও ডাঃ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক রোগীকে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে মামলা হামলা ও জরিমানা হয়েছে

error: Content is protected !!