টাঙ্গাইলে রাজধানী নার্সিং হোমে রোগী হয়রানীর অভিযোগ

অপারেশনের নামে রোগি হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের রাজধানি নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

জরায়ু অপারেশনের এক রোগিকে ৫দিন ভর্তি রাখাসহ ২০-২৫টি টেস্টের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে টাকা। এমন হয়রানী স্বত্তেও রোগির অপারেশন না করে উল্টো ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে বিদায় দেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইল পৌর শহরের সাবালিয়ায় অবস্থিত রাজধানী নাসিং হোমে।

ভুক্তভোগি রোগি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের পয়লা গ্রামের সেকান্দার আলীর স্ত্রী হাফিজা বেগম (৬৫)।

ভুক্তভোগি রোগির ছেলে হাবিবুর রহমান বলেন, গত শনিবার (১৫ আগস্ট) তার মা হাফিজা বেগমকে ভর্তি করা হয় রাজধানী নাসিং হোমে। এ সময় রোগির অপারেশনসহ ক্লিনিকের আনুসাঙ্গিক খরচ বাবদ ১৪ হাজার টাকা দাবি করেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

তবে তারা টাকা জমা না দিয়ে ভর্তি করেন রোগি।

ক্লিনিকের গাইনী বিভাগের দায়িত্বরত ডা. লিংকু রানী করের তত্ত্বাবধানে চলে চিকিৎসা।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগি হাফিজা বেগমের ডায়াবেটিক ও হার্টের সমস্যা চিহ্নিত করেন দায়িত্বরত চিকিৎসক।

রোগির চিহ্নিত ডায়াবেটিক আর হার্টের সমস্যা পরিস্থিতি অবগত হওয়ার জন্য ৫দিন ভর্তি রাখাসহ দফায় দফায় পরীক্ষা নিরীক্ষা করানো হয়।

ভর্তিরত ৫দিনে রোগির রক্তসহ নানা ধরণের প্রায় ২০-২৫টি পরীক্ষা করানো হয়।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রোগির অবস্থার উন্নতি হওয়ার তথ্য দেয়াসহ রাতে অপারেশনের সময় দেন দায়িত্বরত চিকিৎসক। অপারেশনের প্রস্তুতি গ্রহণও করেন পরিবারের সদস্যরা।

হঠাৎ এ্যানেথেসিয়া চিকিৎসক রোগিকে এ অবস্থায় অপারেশন করলে মৃত্যু ঝুঁকি আছে বলে অপারেশন বাতিল করে দেন।

তবে এ সময় ক্লিনিকে কর্মরত ও অপারেশনের দায়িত্বরত চিকিৎসক গাইনী সার্জন ডা. লিংকু রানী উপস্থিত ছিলেন না।

রোগির পরীক্ষা নিরীক্ষায় অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে আপনারা অপারেশনের সময় নির্ধারণ করলেন এখন বলছেন হবে না, এটা কেমন কথা বলে প্রতিবাদ জানায় রোগির পরিবারের সদস্যরা।

এ সময় গাইনী চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হওয়ারও দাবি করা হয়। তবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি না মেনে রোগিকে অন্যত্র ভর্তি করানোর অজুহাতে তাদের ৫ হাজার টাকা দিয়ে বিদায় করেন।

রোগির পিছনে পরিবারের অনেক টাকা খরচ হয়েছে ভেবে কর্তৃপক্ষ তাদের ৫ হাজার টাকা দেয়ার অনুমতি দেন বলে জানিয়েছেন রাজধানী নাসিং হোমের ম্যানেজার আফসার আলী।

এ বিষয়ে রাজধানী নাসিং হোমের দায়িত্বরত গাইনী সার্জন ডা. লিংকু রানী কর বলেন, জরায়ু সমস্যা নিয়ে রোগিটি ভর্তি হলেও তিনি ডায়াবেটিক আর হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রোগির অপারেশন করার মতো অবস্থা হওয়ায় আমি রাতে অপারেশনের সময় দিই। তবে এ্যানেথেসিয়া চিকিৎসক রোগির অবস্থা অপারেশনের অনুকুলে না থাকার কারণ দেখে আপত্তি জানান। যার ফলে ওই রোগির অপারেশন করা হয়নি।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

error: Content is protected !!