সখীপুরে ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শ্বাসরোধে হত্যা! ময়নাতদন্ত রিপোর্ট! আটক ০২

টাঙ্গাইলের সখিপুরে পানিতে ডুবে মৃত্যু ময়নাতদন্তে পাওয়া গেল শ্বাসরোধে হত্যা। জানা গেল,তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সুজন (১১) পানিতে ডুবে মারা যায়নি।

প্রথমে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার তিন মাস ১৭দিন পর গত বুধবার (১২ আগস্ট) আসা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়। হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী একজন বাকপ্রতিবন্ধী শিশুর দেওয়া তথ্য অনুসারে নিহত সুজনের বাবা আন্নাছ আলী বাদী হয়ে গত বুধবার রাতে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ (১২) ও তার বাবা সিরাজুল ইসলাম ওরফে সুরুজকে (৪০) আসামি করে সখিপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ওই রাতেই দুই আসামিকে গ্রেফতার করে গত (১৩ আগস্ট) বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল আদালতে পাঠায়। প্রধান আসামির বয়স কম হওয়ায় সিরাজুল ইসলামকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। সিরাজুল বর্তমানে সখিপুর থানায় রিমান্ডে রয়েছেন।

অন্যদিকে আবদুল্লাহকে (১২) গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

নিহত সুজন মিয়া উপজেলার গড়বাড়ি গ্রামের আন্নাছ আলীর ছেলে। সুজন স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। অন্যদিকে আসামিদের বাড়ি পাশের দিঘীরচালা গ্রামে। আসামি আবদুল্লাহ দিঘীরচালা দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও নিহত সুজনের চাচা জয়নাল আবেদীন জানান, গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা বেলায় বাড়ি থেকে আনুমানিক ২০০ গজ দূরে একটি ঘুড়ি কুড়িয়ে পায় সুজন। সুতো ছিড়ে হারিয়ে যাওয়া ঘুড়ির খোঁজে আবদুল্লাহ পাশের গ্রাম থেকে দৌড়ে সুজনের গ্রামে আসে। সুজন কুড়িয়ে পাওয়া ওই ঘুড়ি নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ঘুড়ির মালিক দাবিদার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ (১২)। ঘুড়ি নিয়ে দুজনের সঙ্গে কাড়াকাড়ির এক পর্যায়ে মারামারি শুরু হয়।

এক পর্যায়ে আবদুল্লাহ সুজনের গলা চেপে ধরলে সুজন অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একই গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী শিশু (বোবা) রুবেল (১১)। রাতে সুজন বাড়ি না ফেরায় তার বাবা বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি খুঁজতে থাকেন। পরের দিন ২৫ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১০টার দিকে সুজনের লাশ পাওয়া যায় ঘটনাস্থলের ৫০ গজ দূরের একটি ডোবায়। শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন না থাকায় ওইদিনই সুজনের বাবা আন্নাছ আলী বাদী হয়ে সখিপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন।

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। তিন মাস ১৭দিন পর গত বুধবার পাওয়া ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে সুজনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।

সখিপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন থানায় পাওয়ার দিনই গত বুধবার রাতে নিহত সুজনের বাবা আন্নাছ আলী বাকপ্রতিবন্ধী রুবেলের দেওয়া তথ্য অনুসারে আবদুল্লাহ ও আবদুল্লাহর বাবা সিরাজুল ইসলাম ওরফে সুরুজকে (৪০) আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। রাতেই বাবা-ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়। আবদুল্লাহর বয়স কম থাকায় শুধু বাবা সিরাজুল ইসলামকে পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে গত বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়। বিকেলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সুজনের বাবা আন্নাছ আলী বোবা রুবেলের দেওয়া তথ্য ও নানা সূত্র থেকে দাবি করেন, সুজনকে গলাটিপে মারার পর আবদুল্লাহর বাবা রাতে ঘটনাস্থলে এসে লাশ পাশের ডোবায় ফেলে দেয়। সখিপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এএইচএম লুৎফুল কবির বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে সহকারী পুলিশ সুপার (সখিপুর সার্কেল) আবদুল মতিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। একজন আসামিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আশা করি সুজন হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।

(দৈনিক ইত্তেফাক)

error: Content is protected !!