বিস্ফোরণের পর আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলো লেবানন সরকার

বৈরুতে বিস্ফোরণের পর জনরোষের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হলো লেবানন সরকার। জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে সোমবার এ ঘোষণা দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব। এদিকে বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২০ জন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন বৈরুতের গভর্নর মারওয়ান আব্বৌদ।

সোমবার টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভে উত্তাল ছিল লেবানন। দাবি একটাই, সরকারের পদত্যাগ। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় বিক্ষোভকারীদের।

এই পরিস্থিতির মধ্যে খবর আসে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ করতে যাচ্ছে লেবানন সরকার। পরে আসে চূড়ান্ত ঘোষণা। পদত্যাগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব।

জাতির উদ্দেশে ভাষণে বিস্ফোরণের জন্য দায়ীদের বিচারের আহ্বান জানান হাসান দিয়াব।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব বলেন, এই অপরাধ পদ্ধতিগত দুর্নীতির ফল। আমার এই পদক্ষেপ নতুন মন্ত্রিসভা গড়তে চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। কিন্তু আমি চাই দেশের জনগণের সঙ্গে পরিবর্তনের জন্য লড়াই করতে।

এর আগে পদত্যাগ করেন আরও চার মন্ত্রী এবং ৯ পার্লামেন্ট সদস্য।

৪ আগস্ট বৈরুত বন্দরে বিস্ফোরণে এখনও নিখোঁজ শতাধিক বলে জানান, রাজধানীর গভর্নর মারওয়ান আব্বৌদ, তাদের বেশিরভাগই বিদেশি শ্রমিক।

লেবানন গত এক দশক ধরে চরম অর্থনৈতিক সমস্যায় জর্জড়িত। এর মধ্যে করোনা ভাইরাসের থাবায়ও নাজেহাল অবস্থা। মুদ্রার মান তলানিতে ঠেকায় বহু বিদেশি শ্রমিক লেবানন ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। দীর্ঘদিনের সমস্যার সঙ্গে বৈরুতের বিস্ফোরণ সঙ্কট আরও প্রবল করেছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে রাজপথে বিক্ষোভ করছেন দেশটির সাধারণ মানুষ। বিক্ষোভ দমাতে নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় রণক্ষেত্র রাজধানী। গ্রেফতার করা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার মানুষ

error: Content is protected !!