সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় ১৬ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় বাহারছড়া ফাঁড়ির ইনচার্জসহ ১৬ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ রোববার ওই পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা।

গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বাহারছড়ায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর পুলিশ তল্লাশি চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ নিহত হয়।
এ ঘটনায় যুক্ত থাকায় ওই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ লিয়াকতসহ ১৬ জনকে আজ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

এই ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। কমিটির অপর দুই সদস্যের মধ্যে একজন কক্সবাজার জেলা পুলিশের এবং একজন সেনাবাহিনীর ১০ম পদাতিক বাহিনীর একজন প্রতিনিধি থাকবেন।

এদিকে আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেছেন, পুলিশের গুলিতে টেকনাফে সাবেক সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাটি তদন্তে গঠিত কমিটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন দেবে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ওই দিনের ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ জানিয়েছে, ওই সাবেক সেনা কর্মকর্তা তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িতে করে অপর একজন সঙ্গীসহ টেকনাফ থেকে কক্সবাজার আসছিলেন। মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া তল্লাশি চেকপোস্টে পুলিশ গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি করতে চাইলে অবসরপ্রাপ্ত ওই সেনা কর্মকর্তা বাধা দেন। এই নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে অবসরপ্রাপ্ত ওই সেনা কর্মকর্তা তাঁর কাছে থাকা পিস্তল বের করলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা রাশেদ গুরুতর আহত হন। তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) শাহীন আব্দুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই অবসরপ্রাপ্ত ওই সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার সকালে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন গতকাল শনিবার জানিয়েছিলেন, শামলাপুরের লোকজন ওই গাড়ির আরোহীদের ডাকাত সন্দেহ করে পুলিশকে খবর দেন। এই সময়ে তল্লাশি চেকপোস্টে গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু গাড়ির আরোহী একজন তাঁর পিস্তল বের করে পুলিশকে গুলি করার চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায়। এতে ওই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
এসপি জানান, এই ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। দুজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ অবসরপ্রাপ্ত ওই সেনা কর্মকর্তার পিস্তলটি জব্দ করেছে। এ ছাড়া গাড়িতে তল্লাশি করে ৫০টি ইয়াবা বড়ি, কিছু গাজা এবং দুটি বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। এসপি আরও বলেন, অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা রাশেদ একটি তথ্যচিত্র ধারণের কাজে আরও চারজন সঙ্গীসহ গত এক মাস ধরে হিমছড়ির একটি রেস্টহাউসে অবস্থান করছিলেন।

error: Content is protected !!