ওসির হস্তক্ষেপে ১৫ বছর পর পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পেল অসহায় প্রতিবন্ধী

ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল খায়েরের একান্ত প্রচেষ্টায় ১৫ বছর পর শেষ সম্বল পৈত্রিক সম্পত্তির ৩০ শতাংশ জমি ফেরত পেয়েছেন মানসিক প্রতিবন্ধী আব্দুস সাত্তার। এতে চলার পথ পেয়েছেন অসহায় আব্দুস ছাত্তার। এলাকায় প্রশংসিত হয়েছে পুলিশের কার্যক্রম।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের মৃত কাছম আলী সরকারের পুত্র আব্দুস সাত্তার একজন সরল প্রকৃতির লোক। ১৯৭২ সালে আইএ পাস করার পর তার কিছুটা মানসিক বৈকল্য দেখা দেয়। পরে সে কোন চাকুরি না করে পৈত্রিক সম্পত্তির আয় থেকেই চলতেন। অসুস্থতা এবং সরলতার সুযোগে তার ভাতিজারা কৌশলে তার সকল সম্পত্তি দখল করে নেয়। পরে সেখান থেকে বেশ কিছু জায়গা-জমি লিখে নেয়। এরপর থেকে সে মানসিকভাবে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন আব্দুস ছাত্তার ভাতিজাদের অত্যাচারে বাড়িতে থাকতে পারেন নি। বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে ছেলে-মেয়েদের প্রাইভেট পড়িয়ে খেয়ে পড়ে থাকতেন। এনিয়ে তিনি বহুবার নিজের সম্পত্তি উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। সম্প্রতি স্থানীয় সাংবাদিক দৈনিক যায়যায় দিনের তারাকান্দা প্রতিনিধি মো. সোহেল রানার মাধ্যমে আব্দুস ছাত্তার তারাকান্দা থানার ওসির স্মরণাপন্ন হন। আব্দুস ছাত্তার তার জমি দখলকারী আব্দুল করিমের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ওসি আবুল খায়ের থানার এএসআই শরীফ উদ্দিনের মাধ্যমে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

পরে ওসি নিজে উদ্যোগী হয়ে অসহায় আব্দুস ছাত্তারকে তার ৩০ শতাংশ পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পেতে সার্বিক পদক্ষেপ নেন। এখন আব্দুস ছাত্তার তার জমি ফিরে পেয়ে সেখানে আমন ধানের চারা লাগাচ্ছেন।
এ ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ পুলিশের কর্মকান্ডে খুশি হয়ে ওসিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অনেকেই বাংলাদেশ পুলিশকে প্রকৃতপক্ষেই মানবিক পুলিশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
জমি ফেরত পাওয়া আব্দুস ছাত্তার বলেন, আমি নিজের সম্পদ থাকার পরও সারা জীবন অমানসিক কষ্ট করেছি। মানুষের বাড়িতে থেকে মানবেতর জীবন যাপন করেছি। বহু মানুষের কাছে ঘুরেও আমি ন্যায় বিচার পাইনি। থানার ওসি আবুল খায়ের সাহেব আমার সব কথা জেনে একজন প্রকৃত মানুষের মত মানবিক হৃদয় নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। উনার জন্যই আজ আমি জায়গা ফেরত পেয়েছি। আমি উনার জন্য এবং সমস্ত পুলিশের জন্য দোয়া করি।

ওসি আবুল খায়ের বলেন, আব্দুস ছাত্তারের কথা শুনে আমি আমার দায়িত্ববোধ থেকেই চেষ্টা করেছি একজন অসহায় মানুষের জন্য কিছু একটার করার জন্য। তিনি যে তার অধিকার ফেরত পেয়েছেন এবং সে কাজে আমি সামান্য হলেও সহযোগিতা করতে পেরেছি তাতে আমার বেশ ভাল লাগছে।

error: Content is protected !!