সখীপুরে বন্যায় হুমকির মুখে পলাশতলী কলেজের নবনির্মিত ভবন

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু : পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান, বহেড়াতৈল, দাড়িয়াপুর, যাদবপুর ও হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হওয়া পলাশতলী মহাবিদ্যালয়সহ বহু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক স্কুল ও মাদরাসার প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

শনিবার সরেজমিন কাকড়াজান ইউনিয়নের পলাশতলী মহাবিদ্যালয় গিয়ে দেখা যায় কলেজটির চারপাশ এবং খেলার মাঠে পানি উঠে যাওয়ায় দাপ্তরিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। টিনের ঘরটিও বন্যার পানিতে হেলে পড়েছে। ওই কলেজে সদ্য নির্মিত চারতলা ভবনটিও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। চলাচলের একমাত্র সড়ক বড়চওনা পলাশতলী হয়ে কালিহাতী সড়কটিরও কয়েক কিলোমিটার পানির নিচে তলিয়ে আছে। সাম্প্রতিক সময়ে পানি বৃদ্ধি থাকায় কলেজসহ আশপাশের গ্রামের মানুষও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এতে চরম বিপাকে পড়েছেন কলেজে আসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। রোপা আমন ধানের বীজতলা ও সবজি পানিতে নিমজ্জিত এবং কাঁচা ঘর, সেতু ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শতাধিক পুকুরের মাছও ভেসে গেছে।শনিবার বন্যা কবলিত ওই কলেজটি পরিদর্শনকালে কলেজ প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় পার্টির কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, বন্যার কারণে পলাশতলী কলেজের ভবন, খেলার মাঠ হুমকির মুখে রয়েছে। এছাড়া আশপাসের এলাকার কৃষি জমির ধানসহ সব ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মানুষ বাইরে যেতে না পারায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে।

কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এ এলাকার পানিবন্দিরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কলেজ ভবন রক্ষায় জরুরীভাবে ভবনের ঝুকিপূর্ণ পাশে রক্ষাবাধ নির্মানে সরকারের প্রতি আহবান জানান।তিনি আরো বলেন, বন্যায় প্লাবিত পানিবন্দি পলাশতলী কলেজসহ আশপাশের অসহায় মানুষদের খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে এবং নিজস্ব অর্থায়নে ত্রাণ দেওয়া কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

পলাশতলী মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু সাঈদ মিয়া নব নির্মিত ভবনের নিরাপত্তায় জরুরী ভিত্তিতে সীমানা প্রাচীর ও ভবন রক্ষাবাধ নির্মানের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানান।

error: Content is protected !!