বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফুটবল ক্যাম্পে টাঙ্গাইলের ৬ তরুণ

এক সময় জাতীয় দলে প্রাধান্য ছিল নারায়নগঞ্জের ফুটবলারদের। এরপরই চট্টগ্রাম ও খুলনার ফুটবলার বেশি থাকতেন। আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু আর মোনেম মুন্নাদের জেলা নারায়নগঞ্জের সেই দাপাট আর নেই। এখন ফুটবলে উঠে আসছে টাঙ্গাইলের তরুণরা।
একদিন আগে কোচ জেমি ডে বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ বাছাইয়ের বাকি চার ম্যাচের জন্য ৩৬ জনের যে প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছেন সেখানে সর্বাধিক ৬ ফুটবলার আছেন টাঙ্গাইলের। আগে থেকেই ছিলেন রায়হান হাসান, বিশ্বনাথ ঘোষ, রবিউল হাসান, মনজুরুর রহমান মানিক। এখন যোগ হয়েছেন দুই নতুন মুখ নাজমুল ইসলাম রাসেল ও সুমন রেজা।

ফুটবলের জাতীয় দলের প্রাথমিক ক্যাম্পে ৬ জন জায়গা করে নিয়ে পুরোপুরি ‘ছক্কা’ মেরে দিয়েছেন টাঙ্গাইলের ছেলেরা। এক সময় রাজত্ব করা নারায়নগঞ্জের তপু বর্মন আর তরুন ইয়াসিন আরাফাত জেলার নাম টিকিয়ে রেখেছেন তালিকায়।
টাঙ্গাইলের ফুটবল ঐতিহ্য অনেক পুরোনো। কলকাতার ইস্টবেঙ্গল ক্লাব পর্যন্ত এক সময় খেলে গেছে এই জেলায় এসে। এই জেলার ফুটবলার শহিদুল ইসলাম রঞ্জন, পিযুষ নন্দী, জাহিদ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, সাদেকুল ইসলাম উত্তম, মামুন মিয়া ও গোবিন্দরা ভিন্ন ভিন্ন সময় জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কখনো এক জেলার এত সংখ্যক ফুটবলার একসঙ্গে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাননি।

দেশের সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক দিলু খন্দকারের জেলা টাঙ্গাইল। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের স্মৃতি রোমান্থন করে তিনি বললেন, ‘আগে কখনো এক সঙ্গে টাঙ্গাইলের এত ফুটবলার জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাননি। ৩৬ জনের মধ্যে ৬জন এই জেলার। এটা অবশ্যই ভালো একটা দিক।’
অন্যদিকে হতাশার সুর সাবেক তারকা ফুটবলার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নুর কণ্ঠে। কারণ, এক সময় তার জেলা নারায়নগঞ্জের ফুটবলাররাই ডমিনেট করতো ঢাকা লিগ ও জাতীয় দলে। ‘স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের জেলার ফুটবলারদেরই প্রাধান্য ছিল। মোনেম মুন্না, জাকির, গাউস, স্বপনরা তো এক সাথে আবাহনী ও জাতীয় দলে খেলেছেন। পরবর্তীতে সুজন-ওয়ালি ফয়সালরাও খেলেছেন। কিন্তু অর্ধযুগ আগে থেকে ফুটবলে আমাদের জেলার প্রাধান্য হারাতে শুরু করেছে। বর্তমান ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন মাত্র দুইজন’- বলছিলেন চুন্নু।
রায়হান হাসানের জাতীয় দলে অভিষেক ৯ বছর আগে। মাঝে কিছুদিন ছাড়া বলতে গেলে নিয়মিতই খেলেছেন টাঙ্গাইলের এ যুবক। টাঙ্গাইল শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে রায়হান আর বিশ্বনাথের বাসা।
‘আমি আর বিশ্বনাথ তো জাতীয় দলের ক্যম্পে আছি। মোহামেডানে খেলে অনিক ঘোষ ও রহমতগঞ্জে লিমন। তাদের বাসাও আমাদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে। একই ওয়ার্ডের চারজন এবং টাঙ্গাইলের মোট ১৬ জন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলছি’- বলছিলেন রায়হান হাসান।
জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাওয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচ ফুটবলার সিলেটের। তারা হলেন- মাসুক মিয়া জনি, মতিন মিয়া, সাদ উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান সুফিল, বিপলু আহমেদ। কক্সবাজারের চারজন- আনিসুর রহমান জিকু, তৌহিদুল আলম সবুজ, মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও সুশান্ত ত্রিপুরা। শহিদুল আলম সোহেল, মামুনুল ইসলাম ও আতিকুর রহমান ফাহাদ চট্টগ্রামের। তপু বর্মন ও ইয়াসিন আরাফাত নারায়নগঞ্জের।
বরিশালের আছেন ইয়াসিন খান ও রাকিব হোসেন। ঢাকার সোহেল রানা ও পাপ্পু হোসেন, সিরাগঞ্জের ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও মো. আবদুল্লাহ, মানিকগঞ্জের আশরাফুল ইসলাম রানা, বগুড়ার নাবিব নেওয়াজ জীবন, জয়পুরহাটের টুটুল হোসেন বাদশা, মাগুরার রহমত মিয়া, কুমিল্লার আরিফুর রহমান, চাঁদপুরের রিয়াদুল হাসান রাফি, রাজশাহীর মানিক মোল্লা ও দিনাজপুরের ম্যাথিউজ বাবলু।
ডেনমার্ক প্রবাসী জামাল ভূঁইয়ার জেলা ময়মনসিংহ ও ফিনল্যান্ড প্রবাসী তারিক রায়হান কাজীর নওগাঁ।

error: Content is protected !!