সখীপুরে কাঁচা রাস্তায় দুর্ভোগ, ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মাদারিচালা এলাকা থেকে ছোট পাথার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার রাস্তা। অন্যদিকে গজারিয়া থেকে জয় বাংলা বাজার পর্যন্ত আরও তিন কিলোমিটার পথ। লাল মাটি দিয়ে ভরাট করায় সামান্য বৃষ্টিতেই এই ছয় কিলোমিটার রাস্তা কাদায় ভরে যায়। এ সময় এই রাস্তা দিয়ে হেঁটেও চলাচল করা যায় না। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ বাড়ে।
এলাকাবাসী এই ছয় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকা করার দাবি অনেক আগে থেকে জানাচ্ছেন। কিন্তু এই রাস্তা পাকাকরণের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
এ অবস্থায় শুক্রবার (২৪ জুলাই) উপজেলার পাথার গ্রামের কিছু তরুণ ও কৃষক মিলে কাঁচা সড়কে ধানের চারা রোপণ করেন।
এ বিষয়ে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য গোলাম মওলা জানান, মাদারিচালা এলাকার আয়াত আলী মেম্বারের বাড়ি থেকে ছোট পাথার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার ও গজারিয়া থেকে জয় বাংলা বাজার পর্যন্ত আরও তিন কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি রাস্তা কমপক্ষে ১০০ বছরের পুরোনো। ১০ বছর ধরে ওই রাস্তা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে কয়েকবার মাটির কাজ করে উন্নয়ন করা হয়েছে। তবে বর্ষা এলে দুর্ভোগের সীমা থাকে না। ওই দুটি রাস্তা পাকা করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সাংসদকে অনুরোধ করা হয়েছে।
পাথার গ্রামের বাসিন্দা ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ বলেন, ‘করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বাড়িতেই রয়েছি। দরকারি কাজে বাজারে যেতে হলে তিন কিলোমিটার কাদা মাড়িয়ে হেঁটে যেতে হয়। আমাদের গ্রামে প্রায় ৩০০ মোটরসাইকেল রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এগুলো ঘরবন্দী করে রাখা হয়েছে। আমরা কয়েকজন তরুণ বন্ধু মিলে রাস্তা পাকা করার দাবিতে কিছু অংশে ধান রোপণ করেছি। কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে এ প্রতীকী প্রতিবাদ করা হয়েছে।’
পাথারপুর চৌরাস্তা বাজারে ওষুধের দোকান করেন আবদুল লতিফ। এলাকায় পল্লিচিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন আমাকে সকালে স্যান্ডেল হাতে নিয়ে পরনের কাপড় উঁচু করে তিন কিলোমিটার হেঁটে দোকানে যেতে হয়। আবার রাতে একই কায়দায় বাড়িতে ফিরে আসতে হয়। এভাবে আর কত দিন?’
গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান মিঞা বলেন, গ্রামের কিছু তরুণ রাস্তায় ধান রোপণ করেছেন বলে ফেসবুকে তিনি ছবি দেখেছেন। ওই দুটি রাস্তা অনেক দিনের পুরোনো। বিষয়টি স্থানীয় সাংসদকে জানানো হয়েছে। আগামী বছর তিনি ওই দুটি রাস্তা পাকা করে দেবেন।
উপজেলা প্রকৌশলী এস এম হাসান ইবনে মিজান বলেন, ওই দুটি রাস্তা পাকা করার জন্য স্থানীয় সাংসদের উন্নয়নকাজের তালিকায় রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ওই দুটি রাস্তাও পাকা হবে।

error: Content is protected !!