করোনাকালে বাসায় কোচিং করানোর দায়ে টাঙ্গাইলে প্রধান শিক্ষকের জরিমানা

(মির্জাপুর নিউজ ডেস্ক): করোনাকালীন সময়ে মির্জাপুরে বাসার ভেতর কোচিং করানোর অভিযোগে উপজেলা সদরের বাইমহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরাকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকালে মির্জাপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক মো. জুবায়ের হোসেন এ জরিমানা করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকার করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট এই মহামারী পরিস্থিতিতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারগুলো পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে। কিন্তু নিয়ম বহির্ভূতভাবে অভিযুক্ত ওই প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে নিজের বাসায় তারই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোচিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।

এমন খবর পেয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মির্জাপুরের এসিল্যান্ড ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বেলা পৌনে ১১টার দিকে প্রধান শিক্ষক হোসনে আরার বাসায় গিয়ে দেখেন, একটি মাত্র কক্ষে গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের বসিয়ে কোচিং করানো হচ্ছে। যার ফলে সংক্রীর্ণ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের মাঝে কোনো শারিরীক দূরত্ব বজায় ছিল না। এছাড়াও শিক্ষকসহ অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মুখে মাস্ক ছিল না। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে আর্থিক জরিমানা আদায় করেন।

অভিভাবক ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাইমহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হোসনে আরা নিজের বাসাতেই কোচিং করান। তবে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। এর মধ্যে পঞ্চম শ্রেণির সব শিক্ষার্থীকে তার কাছে বাধ্যতামূলক কোচিং করতে হয়। এজন্য তিনি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে মাসিক বেতন নিয়ে থাকেন। সব মিলিয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে ৭১ জন শিক্ষার্থী আছে বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

বিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি লুৎফর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষক হোসনে আরাকে এই পরিস্থিতিতে কোচিং না করানোর অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই আহবানে সাড়া দেননি। তবে জরিমানা করার বিষয়টি আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য দুর্নামের।

এদিকে প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা বলেন, ‘ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আমি বিল্ডিং করেছি। বেতন যা পাই, ঋণের টাকা পরিশোধ করতেই চলে যায়। এজন্য কয়েকজনকে প্রাইভেট পড়াচ্ছি।’

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, সরকারি নিয়ম না মেনে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছিলেন। এজন্য তাকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একই সাথে ওই শিক্ষককে কোচিং করানো বন্ধ করতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে পুনরায় সরকারি নিয়ম অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
(নিউজ টাঙ্গাইল)

error: Content is protected !!