করোনা পজেটিভ জেনেও ১৫ দিন ঘুরে বেড়িয়েছেন টাঙ্গাইলের গার্মেন্টস শ্রমিক!

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত জানার পরও কর্মস্থলে গেছেন। এমনকি গ্রামে ফিরে পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপনও করেছেন স্বাভাবিকভাবে। এ সময় তার সংস্পর্শে এসেছেন অনেকেই। করোনা পরীক্ষায় রিপোর্ট পজিটিভ জানার পরও ১৫ দিন তিনি এভাবেই কাটিয়েছেন৷ অবশেষে সোমবার (১ জুন) টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন এই করোনা রোগী।
তার নাম ফজলুর রহমান (৪৩)। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের চৌবাড়িয়ার আলোকদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুস সোবহান বেপারীর ছেলে তিনি। ফজলুর গাজীপুরের বডি ফ্যাশন লিমিটেড নামের এক গার্মেন্টস কোম্পানীতে চাকরি করেন।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম সজিব বলেন, সোমবার সকালে করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে ওই রোগী আসেন। ওই রোগী গাজীপুরের বডি ফ্যাশন লিমিটেড নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
তিনি জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে গত ১৬ মে গাজীপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি নমুনা দেন। দুইদিন পর জানানো হয় তার রিপোর্ট পজিটিভ। এরপরও তিনি ২২ মে পর্যন্ত কর্মস্থলে কাজ করেছেন। ঈদের ছুটিতে ২৩ মে তিনি বাড়িতে আসেন। তথ্য গোপন তিনি সবার সঙ্গে স্বাভাবিক মেলামেশা করেন। ১৫ দিন পর আজ সোমবার হঠাৎ করে মনে হল, তার করোনা পজেটিভ। পরে তিনি চিকিৎসা নিতে আসেন।
ডা. শফিকুল বলেন, তাকে করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এই রোগী তথ্য গোপন করে দুই সপ্তাহে বহু মানুষকে ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছেন। এর দায় কে নিবে।
এখন পর্যন্ত ১৭ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৪ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। ১ জন রোগীকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। বর্তমানে ২ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন বলেও জানা এই চিকিৎসক।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতিকুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আক্রান্ত ওই গার্মেন্টস শ্রমিকের বাসা লকডাউন করা হবে। তিনি যাদের সংস্পর্শে এসেছেন তাদের নমুনা নেয়া হবে।
(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

error: Content is protected !!