টাঙ্গাইলে প্রশাসনের সহায়তায় অবশেষে উদ্ধার হলো হারিয়ে যাওয়া করোনা রোগী

গতকাল ১২ই মে সকালে সদর হাসপাতালের করোনা রিপোর্টে ২১ বছরের একটি মহিলার করোনা টেস্ট পজেটিভ আসে।

তার ঠিকানা লেখা ছিল শুধুমাত্র বাঘিল সাথে একটি মোবাইল নাম্বার। সেই মোবাইল নাম্বারে সকাল থেকে সারাদিন ফোন দিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। টাঙ্গাইল সদরের মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বার স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠকর্মীরা হন্যে হয়ে তাকে গ্রামে গ্রামে খুজেও পায়নি। পুলিশ মোবাইল নাম্বার ট্রাকিং করে জানায় সখিপুরের নলুয়া অবস্থান করছে। অবশেষে গত রাত দশটায় সদর থানা পুলিশ জানতে পারে মেয়েটি সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে অবস্থান করে।

জানা মাত্রই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক সদস্যদেরকে সাথে নিয়ে রাত ১১.৩০ এ বাসাটি লকডাউন করে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে জানা যায় মেয়েটি টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের গাইনী বিভাগে ভর্তি ছিল। গত ৯ মে তার একটি মেয়ে জন্ম লাভ করেছে। গতকাল দুপুরে সে সদর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে তার মায়ের বাসা টাঙ্গাইলের তারটিয়া চলে আসে। স্যাম্পল কালেকশনে তার স্বামীর মোবাইল নাম্বার দেয়া ছিল। সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর ডিটেইলস লিপিবদ্ধ না করে স্যাম্পল কালেকশন করে।

মেয়েটির বাসায় গিয়ে দেখলাম একটিমাত্র ছোট টিনসেড রুম ভাড়া করে মা বাবা ও ছোটবোনসহ পাঁচ জন থাকে। ঐ বাড়িতে ছয়টি টিনসেড রুমে ছয়টি দিনমজুর পরিবার এভাবেই বসবাস করছে। যেহেতু মেয়েটিকে আইসোলেশনে রাখতে হবে। প্রথমে সিদ্ধান্ত হয় সকালে শশুড় বাড়ি পাঠাবো এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে যেহেতু সেই বাড়িতে আলাদা রুম আছে। পরবর্তীতে নতুন স্থানে না নিয়ে পাশের একটি রুমের ভাড়াটিয়া বাসা তালা দিয়ে গ্রামে যাওয়ায় ঐ রুমের তালা ভেঙ্গে করোনা আক্রান্ত মেয়েটিকে সেই রুমে থাকার জন্য বলা হয়।

তিনদিনের বাচ্চাটার জন্য কষ্ট লাগছে সকালেই তার জন্য গুড়োদুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌছে দেয়া হবে। পুরো বাড়িটি লকডাউন ঘোষনা করা হয়। তাদের প্রত্যেককে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী প্রদানসহ সকল ধরণের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। সকলকে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করার জন্য অনুরোধ করা হয়। তারা কথা দিয়েছে বাহিরে বের হবেনা।

(সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলামের টাইম লাইন থেকে)

error: Content is protected !!