টাঙ্গাইলে অফিস কক্ষে মাদকের আসর বসানোর অভিযোগে চিকিৎসক শোকজ! তদন্ত শুরু

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ারুল ইসলাম শাওনের অফিস কক্ষে রাতের বেলা মাদকের আসর বসানোর অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।রবিবার মধুপুর হাসপাতলের আরএমও ডা. রাশেদউজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ওই কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ছুটি না নিয়ে করোনাকালে অননুমোদিতভাবে স্টেশন ত্যাগ করায় ডা. আনোয়ারুল ইসলাম শাওনকে শোকজ করা হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
হাসপাতালের আরএমও রাশেদউজ্জামান জানান, তদন্ত শুরু হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। হাসপাতালের কেউ দোষী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুবিনা ইসলামকে একাধিকার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

তবে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, হাসপাতালের একজন ডাক্তারের অফিস কক্ষে বহিরাগতদের মাদক সেবনের আসর বসানো গুরুতর অপরাধ। ঘটনা সত্য হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা।

এদিকে মেডিকেল অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম শাওন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খন্ডন করে জানান, তিনি ঢাকাতে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সুতরাং গত রাতের নেশার আসরে তিনি ছিলেন না। তিনি ইয়াবা ব্যবসার সাথেও জড়িত নন। নেশাখোররা কিভাবে তার অফিস কক্ষে প্রবেশ করেছিল সেটি তিনি জানেন না।
এদিকে গত শনিবার রাতে হাসপাতালের আউটডোরে ডাক্তার শাওনের ২০ নাম্বার কক্ষে নেশার আসর বসানোর অভিযোগে হাতেনাতে আটক তিন মাদকসেবীকে রবিবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেলজরিমানা করা হয়।
মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা জহুরা পুলিশের হাতে আটক বাপ্পী খান, মাহবুব সুমন এবং মানস গুহ নিয়োগীকে মাদক সেবন ও রাখার অভিযোগে প্রত্যেককে এক মাসের করে জেল এবং এক হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।
উল্লেখ্য মধুপুর থানা পুলিশ গোপনে খবর পেয়ে গত শনিবার রাত ১০টায় এক অভিযান চালিয়ে মধুপুর হাসপাতালের আউটডোরে ডাক্তার শাওনের অফিসে মাদকের আসর বসানোর অভিযোগে মাদকসহ ওই তিনজনকে আটক করেন

error: Content is protected !!