সখীপুরে নমুনা দেওয়ার দুইদিন পর হোম কোয়ারেন্টিনে স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু।

টাঙ্গাইলের সখীপু‌রে ক‌রোনাভাইরা‌স সন্দেহে নমুনা দেওয়ার দুইদিন পর মাজম আলী নামের এক স্কুল শিক্ষকের (৩০) মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নে তিনি নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় মারা যান। নতুন নিয়োগ পাওয়া ওই শিক্ষক বেতনভাতা তুলতে গত আটদিন আগে সিলেট যান। সিলেট থেকে বাড়ি ফেরার কারণে কুতুবপুরবাসী তাঁকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখেন।
কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মজিবর রহমান ফকির জানান, সিলেটে এমপিওভূক্ত একটি উচ্চবিদ্যালয়ে নতুন নিয়োগ পাওয়া ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে হার্ডের সমস্যায় ভুগছিলেন। গত আটদিন আগে তাঁর কর্মস্থল সিলেট থেকে ফেরার কারণে এলাকাবাসী তাঁকে বাড়িতেই কোয়ারেন্টিনে রাখেন। ওই শিক্ষক নিজে থেকেই গত শনিবার সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে করোনাসন্দেহে নমুনা দিয়ে যান। কয়েকদিন ধরে তাঁর শরীরে প্রচুর পক্স (গুটি বসন্ত) দেখা দেয়। আজ সোমবার বাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে বিকেলে পারিবারিক গোরস্থানে স্বল্প পরিসরে জানাজা শেষে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
উপ‌জেলা স্বাস্থ্য ও প‌রিবার প‌রিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুস সোবহান ব‌লেন, ওই ব্যক্তি নিজের ইচ্ছাতেই করোনাসন্দেহে গত শনিবার হাসপাতালে নমুনা দিয়ে যান। গতকাল রোববার তাঁর নমুনাসহ ১৮জনের নমুনা সংগ্রহ ক‌রে ঢাকায় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হ‌য়ে‌ছে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত আইইডিসিআর থেকে ওই ১৮জনের ফলাফল আসেনি। কাল মঙ্গলবার ওই ব্যক্তির করোনা হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত করে বলা যাবে।
তিনি আরও জানান, সখীপুরে এ পর্যন্ত ২৪০জনের নমুনা আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে ২২২জনের ফলাফল আমাদের কাছে এসেছে। এরমধ্যে একই পরিবারের পাঁচজনসহ ছয়জনের করোনা ‘পজেটিভ’ আসে।

error: Content is protected !!