মধ্যবিত্তদের কথা কেউ ভাবে না!

দেশের ক্লান্তিলগ্নে হুহু করে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। মার্চের ১৮ তারিখ থেকে শুরু হয়ে এখনো পর্যন্ত স্কুল কলেজ বন্ধ রয়েছে।

স্বল্প পরিসরে কিছু কল-কারখানা,গার্মেন্টস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার এক মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানের সাথে কথা হলো, তার বাবা কৃষিকাজের পাশাপাশি একটি ছোটখাটো দোকান করতো। লকডাউনের পর থেকে প্রায় দেড় মাস ধরে বাবার দোকান বন্ধ। ছেলে একটি কে.জি স্কুলে পড়ানোর পাশাপাশি টিউশনের টাকায় মাস কোনমতে চলে যায়। কিন্তু লকডাউনের পর থেকেই বাবা ছেলে দুইজনের আয়ের মাধ্যম যেন সংকীর্ণ হতে শুরু করেছে।

মধ্যবিত্ত পরিবারের একমাত্র আয় উপার্জনক্ষম ব্যক্তি জানান, দেড় মাস ধরে দোকান করতে পারি না। বাডিতে টুকটাক কৃষি কাজ করে দিন পাড় করছি। দোকান খুলতে না পারলে এবারের ক্ষেতের ধান কেটে ঘরে তোলার টাকা পাবো কোথায়? আর নিজের কাছে যা ছিল তা গত একমাসে শেষ হয়ে গেছে। ছেলে টিউশনির টাকা জমিয়ে বাবাকে সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য করত।

কিন্তু সেই টিউশনি তো দূরে থাক,এখন তো জীবন রক্ষার তাগিদে ঘর থেকে বের হওয়াই মানা। যা টাকা ছিল শেষ হয়ে গেছে। বাবার মুখের দিকে তাকালে বুকটা হুহু করে কেঁদে উঠে। এই দুর্যোগপূর্ণ মুহুর্তে আমি বাবাকে সাহায্য ত দূরে থাক,নিজেই যেন নিজের বোঝা হয়ে গেছি এমনটা মনে হয়। আমদের চারপাশে এমন হাজারো পরিবার রয়েছে যারা কিনা এই দুর্যোগপূর্ণ মূহুর্তে খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছে।

অসহায় মানুষের মত তাদের ত্রাণের খবর কেউ নেয়নি। লজ্জায় কারো কাছে হাত না পাতলেও অর্থাভাবে জীবনে যেন নেমে এসেছে এক ঘোর অন্ধকার।

এমন অন্ধকারের খবর সমাজের কতজন বিত্তবান খোঁজ নেন? নেন না জনপ্রতিনিধিরাও। দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে অনেকে চালের নয়-ছয় করে ধরা খেয়েছেন। যেসকল হাতেগোনা জনপ্রতিনিধিরা জনগণের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তারা অন্তত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মানুষের অভাব অনটন কিছুটা হলেও দূর করতে। এ যেন সাধ থাকলেও সাধ্য নেই এমন অবস্থা। দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে সরকারের বিত্তবান শ্রেণির মানুষ,জনপ্রতিনিধিদের উচিত অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘবের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারের খোঁজখবর নেয়া। চাইতে না পারা বুকের মধ্যে কষ্ট আর ক্ষুধা লুকিয়ে রেখেই যদি মধ্যবিত্ত অবহেলিত হয় তাহলে এ দায় আমাদের সকলের।

error: Content is protected !!